শিরোনাম

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে তা বাতিল হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কিছুটা ঘাটতি হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে এই খবর নাকচ করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যাপারে সমস্যার সৃষ্টি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। ‘প্রত্যাগত প্রবাসী আওয়ামী ফোরামে’র প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর বয়কট করেছেন কি না সাংবাদিকরা এই বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে বয়কটের কোনো বিষয় নয়। এটা আমি যতটুকু জানি, বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস একদম আমাদের দুয়ারে সমাগত। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কারণে তারা ভারত সফরে নাও যেতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে যাবেন।’

‘তাই বলে সফর চিরতরে বাতিল হয়নি। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে, গঠনমূলক বন্ধুত্ব রয়েছে। এটা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে দিকে আমাদের নজর রয়েছে। আমাদের কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।’

এনআরসি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। তাদের পার্লামেন্টে যদি কোনো আইন পাস হয় সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সেখানে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে যে বিষয়গুলো আমাদের অ্যাফেক্ট করে বা আমরা প্রতিক্রিয়াটা আমাদের কাছে আসে বা আমরা অ্যাফেক্টেড হই, অবশ্যই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে..সেখান থেকে অলরেডি বক্তব্য রাখা হয়েছে। পরারাষ্ট্র থেকে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে এর বাইরে আমার কোনো ভিন্ন বক্তব্য নাই।’

‘শুধু এটুকু বলতে চাই, শেখ হাসিনার সরকারই হচ্ছে পঁচাত্তর পরবর্তী একমাত্র সংখ্যালঘুবান্ধব সরকার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাঝে মাঝে হয়তো একটা-দুটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে..এতো মানুষ, এখানে দুর্বৃত্ত আছে। দুর্বৃত্তায়নের চক্র আমরা ভেঙে দিতে চাই।’

কাদের বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এলে কোনো দলীয় পরিচয়ে হয় না। দুর্বৃত্তদের কোনো দল নেই। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলতে যেটা বোঝায় সেটি দগদগে চিত্র দেখা যাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে তার সঙ্গে। সেটি কেবল ৭১-এর বর্বতার সঙ্গে তুলনা করা চলে।’

এনআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন