শিরোনাম

শোভন-রাব্বানী’র সাথে সখ্যতা
বিবাহিত, বহিস্কৃত হয়েও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদচ্যুত করা হয়েছে। গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনায় উঠলে সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষ এই দুই নেতাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের সূত্র থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই দুই নেতা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অছাত্র ও বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পণার বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেও ২ কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয় ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পদচ্যুত ছাত্রলীগের শীর্ষ এই দুই নেতার প্রভাবের কারণে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতেও সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়েছে বহিস্কৃত এক নেতাকে।

বিবাহিত, চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা দখলের মত ঘটনায় অভিযুক্ত এবং স্থায়ী ভাবে বহিস্কৃত তারপরও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন আতিকুর রহমান নামে ওই ছাত্রলীগ নেতা। সম্প্রতি পদচ্যুত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সম্পাদক রাব্বানীর সাথে সখ্যতার কারণেই তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকের সাথে গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ এমন অনেক ছবিতেই যার প্রমাণ মেলে।

সদ্য পদচ্যুত ছাত্রলীগের সা. সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আতিক। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

জানা যায়, ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।

এরপর গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সভায় বিবাহের তথ্য গোপন করা দায়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিককে কেন বহিস্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন।

বিবাহিত হওয়ার প্রমাণ।

একই বছরের ১৬ মে সাভারের উলাইলে বাজারের দোকান থেকে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলরের সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও আহতের ঘটনা ঘটে।

পরে এঘটনায় ২১ মে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সভায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকুর রহমানকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলার সকল কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বহিস্কারাদেশের প্রতিলিপি।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল নবী ইমু বলেন, ‘আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্বকালীন সময়ে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান বিবাহিত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক এসআইকে মারধরের ঘটনারও প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করেন।

তবে বহিস্কৃত হওয়ার পরও কিভাবে সে আবারো ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘এ ধরণের বিতর্কিত ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

অপরদিকে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এ বিষয়ে বলেন, ‘সবে মাত্র তারা ছাত্রলীগের দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। গতকাল আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সংগঠন পরিচালনার জন্য তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তিনি যে ভাবে নিদের্শনা দেন সংগঠন সেভাবেই পরিচালনা করা হবে।’

এছাড়া সংগঠনে ইতোমধ্যে যে সব গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ হয়েছে তা সমাধানের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে আবারো আদর্শিক ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।’

আইআই-এআরএ-এআইএস/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন