
গত কয়েক মাস ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভের মধ্যেই দেশের সাংবিধানিক আদালত ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাচার কেইতা। শুক্রবারও দেশটির বিভিন্ন স্থানের সড়কগুলোতে হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে ওই বিক্ষোভ চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কেইতা বলেছেন, তিনি এ ধরনের সহিংসতা সহ্য করবেন না। গত মার্চে পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেশটির একটি প্রদেশের নির্বাচনী ফল নিয়ে বিতর্কিত রায় দেওয়ার পর থেকেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে জনমানুষ প্রেসিডেন্ট কিয়েতার পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট কেইতা এ ঘোষণা দেন। বিক্ষোভকারী শুক্রবারও দেশটির পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নিয়ে মালির দীর্ঘদিনের জিহাদি দ্বন্দ্ব, নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সমস্যা ও বিতর্কিত নির্বাচনের জন্য প্রেসিডেন্ট কেইতার পদত্যাগ দাবি করেন।
গত মার্চে মালিতে আফ্রিকার দারিদ্রপীড়িত এই দেশটি পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সাংবিধানিক আদালত ওই নির্বাচনের পর ৩০টির মতো আসনের প্রাথমিক ফল উল্টে দেয়। এরপর থেকেই আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশটিতে তুমুল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।
রক্ষণশীল ইমাম হিসেবে পরিচিত মাহমুদ ডিকোর নেতৃত্বে নতুন একটি বিরোধী জোট প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি প্রত্যখান করে নতুন করে সরকার সংস্কার করার ওপর জোরারোপ করছে। তাদের এসব দাবির মধ্যে একটি উভয় দলের সমন্বয়ে একটি ঐক্যের সরকার গঠনেরও বিষয়টিও রয়েছে।
কেইতা ওই ভাষণে বলেন, ‘সাংবিধানিক আদালতের অবশিষ্ট সদস্যদের লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে কর্তৃপক্ষ আদালতে নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে পারবে; সংস্কার করা আদালত তখন পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তার দ্রুত একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে।’