1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  6. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :

বিএনপি-জামায়াতের গাঁটছড়া যুগপৎতে দৃশ্যমান

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:১৫ am

নীরা নূসরাত: বিএনপি-জামায়াতের গাঁটছড়া দীর্ঘ ২৩ বছরের। মাঝেমধ্যে এ গাঁটছড়ায় টান পড়লেও ছিঁড়ে না। রাজনৈতিক নানা সমালোচনা মুখে বিগত ৬ বছর ধরে কৌশলগত দূরত্বে চলছে মিত্র এই দল দুটি। তবে সমীকরণ যাই হোক, শেষমেশ সম্পর্কের ধোঁয়াশা কাটিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে একসঙ্গে পথচলার আভাস দিচ্ছে দুপক্ষই। বিএনপির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছে জামায়াত। এরপরেও জামায়াত- যোগ স্বীকারে নারাজ বিএনপি।

জামায়াত ইস্যুটি বিএনপির কাছে বরাবরই স্পর্শকাতর। এ কারণে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে বিএনপির নেতারা বেশিরভাগ সময়েই চুপ থাকেন বা এড়িয়ে যান। যুগপৎ আন্দোলনেও জামায়াতের অংশ নেয়া প্রশ্নে লুকোচুরি করছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সরকারবিরোধী সব দলের জন্য খোলা তাদের দরজা। তবে সেখানে জামায়ত কোন ফরমেটে থাকছে তা স্পষ্ট করছেন না তারা।

গত ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে বিএনপি ঘোষিত যুগপৎতের ১০ দফা দাবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা দেয় জামায়ত। ১০ দফা দাবি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী জানায়, বিএনপির তোলা দাবি নিয়ে তারাও ২৪ ডিসেম্বর একই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। ঢাকায় আওয়ামীলীগের সম্মেলনের কারনে ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি জানায় তাদের কর্মসূচি স্থগিত। পূর্ব নির্ধারিত গণমিছিল হবে ৩০ ডিসেম্বর। তার দুই দিন পর আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতও তাদের মিছিল পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নিয়ে যায়। এর পরেও যুগপৎ আন্দালনে জামায়ত প্রশ্নে বিএনপি চুপ।

যুগপৎ আন্দোলনে জামায়ত থাকছে কিনা? এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সম্প্রতি ভেঙে যাওয়া ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভিন্নবাতাকে তিনি বলেন, যুগপৎ তো যে যার মতো করে করবে, এখানে কে থাকবে কে থাকবে না সেটা দলগুলো নিজেরা ঠিক করবে। যুগপৎ আন্দোনের মুরব্বি তো বিএনপি সেক্ষেত্রে জামায়ত থাকছে কিনা সেটা বিএনপির কাছে এখনো পরিস্কার নয় কোনো? নজরুল ইসলাম খানের উত্তর-আজই সবে লিঁয়াজো কমিটি হলো। কমিটিতে যারা আছেন তারা সমমনা দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে সব ফাইনাল করবে।

১৯৯৯ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেঁধে দুই বছরের পরের নির্বাচনে বিএনপি জয় পেলেও পরে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিএনপিকে বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এরপর থেকে ভোটে হিসাব চালিয়ে গেলেও প্রকাশ্যে জামায়াতের সঙ্গে সভা-সমাবেশের মিলিত হওয়া বন্ধ করে দিয়ে বিএনপি। তবে জামায়তের সঙ্গে সখ্যতা ধরে রাখতেই ২০ দলীয় জোটকে নিস্ক্রিয় রাখা হয় দীর্ঘদিন। এমনকি এবার বৃহত্তর বা যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে জামায়াত ইস্যু কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না, এই ভাবনা থেকে দলটির সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য আলোচনায় যায়নি দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ২৭ আগস্ট বোমা ফাটান জামায়াত আমির। জানান, বিএনপির সঙ্গে জোট আর নেই। তবে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আপত্তি নেই।

এর সাড়ে তিন মাস পর ৮ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন মির্জা ফখরুল। বলেন যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছেন তারা। ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাওয়ায় শরিকদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জোট গঠন করছে দলগুলো। এরই মধ্যে ১২ দলের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ছয় দল নিয়ে আরোও একটি মোর্চা হচ্ছে খুব শিগগিরই। নির্বাচন ও আন্দোলন সামনে রেখে ছোট ছোট দলের এমন জোট গঠনের নেপথ্যে বিএনপির প্রেসক্রিপশন দেখছেন অনেকে। দীর্ঘদিনের জোটের শরিকরা যেন বিছিন্ন না হয়ে যায়, সে কারণে বিএনপির এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমমনা দলের নেতাদের দাবি-জামায়াত নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই জোট ভাঙাগড়ার এই কৌশল।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যুগপৎ নিয়ে ভিন্ন কৌশলের প্রশ্নই আসে না। এই প্ল্যাটফর্ম একেবারেই ফ্রি। এই আন্দোলনে যে কোনো দল ও মতের লোক আসতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াত বলে কথা না, যারা এই সরকারের বিদায় চায়, যারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা চায়, তারা একমত হয়ে তাদের অবস্থান থেকে আন্দোলন করলে আমরা তো নিষেধ করতে পারব না।

বিএনপির নেতারা এড়িয়ে গেলেও চলমান যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির ও জামায়াত যে গোপন আলোচনা করেই কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছে তার স্পষ্ট প্রমান প্রমান মেলে ২৪ ডিসেম্বর দেশব্যাপি বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচিতে। ওইদিন যুগপৎ কর্মসূচির প্রথম দিনে জামায়াতে অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার ও পুলিশি হামলায় আহত হন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামায়াত সঙ্গে আমাদের ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন ছিলো। এটা আদর্শভিত্তিক নয়। জামায়াত যদি মনে করে যে একটা সুষ্ঠ নির্বাচন দরকার, তো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াত আন্দোলন করতেই পারে। তাছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে সরকার বিরোধী যে কেউই আমাদের মিত্র হতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের পুরো প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। এরই অংশ হিসাবে ১০ ডিসেম্বরে পরে কর্মসূচির ধরন ও সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক হয়েছে জামায়ত নেতাদের। একই সঙ্গে গ্রেফতার এড়িয়ে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে রুকন সম্মেলন করেছেন। গোপনে বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত কর্মী সভায় যোগ দিচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। কর্মী সম্মেলনে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি এসব তথ্য নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠায়।

জামায়াতের আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন তৎপর। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ লক্ষ্যে পৌঁছতে নানা কৌশল আঁটছে। জামায়াতে ইসলামীও বসে নেই। তারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। সরকার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই নির্বাচন চায় দলটি।

জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কোনো জোট বা দলেল নেতৃত্বে নয়, গণমানুষের মুক্তির জন্য ১০ দফা কর্মসূচি নিয়ে জামায়তে ইসলাম মাঠে আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, আমরা যা করবো প্রকাশ্যেই করবো। হামলা-মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য চলমান এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

ভিন্নবার্তা ডটকম/আরজে/এন



আরো




মাসিক আর্কাইভ