1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
বাস হেলপার হত্যার ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে না |ভিন্নবার্তা

বাস হেলপার হত্যার ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে না

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

রাজশাহীতে বাসচালকের সহকারীকে (হেলপার) গলাকেটে হত্যার ঘটনার কোনো ‘ক্লু’ পাচ্ছে না পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে ঘটনার একদিন পরও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ।

চুরি অথবা পূর্বশত্রুতার জেরে এমন হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে- প্রাথমিকভাবে এই দুই কারণ সামনে রেখে তাই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগরের শাহ মখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহত বাস হেলপার দীপক দাস ওরফে মনির মা শ্রীমতি দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় বেশ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার চারদিন আগে বাসটি ওখানে রাখা হয়েছিল। এরপর প্রতি রাতেই পাহারা দেওয়ার জন্য হেলপার মনি গিয়ে বাসের ভেতরে ঘুমোতেন। আবার সকালে উঠে চলে যেতেন। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাতে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মহানগরের শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মনির দায়িত্ব ছিল রাতে কোনো কিছু চুরি এড়াতে বাসের ভেতর থাকা। সে কয়েকদিন বাসের ভেতরে ছিলও। বুধবার রাতে মনি গ্যারেজে আসার পরে মালিক লালু সব বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।

পরদিন গ্যারেজ খুলে অন্য একটি বাসের কাজ করছিলেন। বাসের মালিক ফোনে মনিকে না পেয়ে গ্যারেজ মালিক লালুকে বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে তিনি ও তার কর্মচারীরা জানালা দিয়ে দেখেন বাসের মধ্যে মনির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। এরপর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আপাতত হত্যাকাণ্ডের কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো মেলেনি। ওই বাসের মালিক-চালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, নিহত মনির মা শ্রীমতি দাসের আহাজারি থামছে না। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। সংসারের অভাব মেটানোর জন্য গত ৩/৪ বছর থেকে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন মনি।

শ্রীমতি দাস বলেন, কয়েক মাস আগেই আরপি চ্যালেঞ্জার নামে ওই বাসের হেলপার হিসেবে কাজে লেগেছিল মনি। বাস মালিকের অনুরোধে ওই এলাকার লালুর গ্যারেজে বাসের মধ্যে ঘুমাতো। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে মনি আমাকে বলে মা বাসের সুপারভাইজার ফোন দিয়েছে গ্যারেজে যেতে হবে। এর পরে মনি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।

‘এরপরে রাত ১১টার দিকে আমি তার মোবাইলে ফোন দিলে মনি বলে মা তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে যাও। আমিও ঘুমাবো। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে মনির ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুর ১২টার দিকে জানতে পারি আমার ছেলে মনি আর নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমার জানামতে তার কোনো শত্রু নেই। ’

শ্রীমতি দাস আরও জানান, তার স্বামী মারা যাওয়া পরে ছেলে মনি ও মেয়ে সাত বছরের মেয়ে মিষ্টিকে নিয়ে শিরোইল কলোনি হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়ায়। শহরে আসার পর তিনি নিজেও মানুষের বাড়িতে কাজ করেন।

যারাই তার ছেলেকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের যেন কঠিন শাস্তি হয়- সেটাই চান ছেলে হারানো অসহায় এই মা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে মহানগরের খানকা শরীফ মোড় এলাকার একটি গ্যারেজে থাকা ‘আরপি চ্যালেঞ্জার’ (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-১৩১৬) নামে বাসের ভেতর থেকে হেলপার দীপক দাস ওরফে মনির (২২) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By ProfessionalNews