1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
বাংলাদেশ কার ভ্যাকসিন আগে পাবে - |ভিন্নবার্তা

বাংলাদেশ কার ভ্যাকসিন আগে পাবে

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র সবাই করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন তৈরি করার কাজ করছে। যে দেশের ভ্যাকসিন আগে আসবে, সরকার সেই দেশকেই প্রাধান্য দেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়ায় দেশে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়লো। তবে বাংলাদেশ কার ভ্যাকসিন আগে পেতে পারে, সেটা কী বিনা পয়সায় নাকি কিনে নিতে হবে তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০২টি গবেষণা চলছে ভ্যাকসিন নিয়ে। তার মধ্যে আটটি ভ্যাকসিনের গবেষণা রয়েছে তৃতীয় ধাপে, যার মধ্যে চার থেকে পাঁচটিকে ভ্যাকসিন হিসেবে পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রায় ৩০টির মতো রয়েছে প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে। সব মিলিয়ে কোভিড মহামারি মোকাবিলায় ৯ ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার মধ্যে ছয় ধরনের ভ্যাকসিন বিশ্বের ইতিহাসে এবারই প্রথম, এই ছয় টেকনিকের ভ্যাকসিন পৃথিবীতে এখনও নেই।

বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের আবেদন করেছে গত জুলাই মাসে। চীন, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিনের কাজ অ্যাডভান্সড স্টেজে রয়েছে। বাংলাদেশেও কয়েকটি কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে।

আবার বিশ্বে ৬০টি দেশ রয়েছে, যারা টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনবে। আর ৯২টি দেশ রয়েছে যারা বিনা পয়সায় পাবে, যার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। তাই বাংলাদেশ কবে পাবে বা কার ভ্যাকসিন আগে পেতে পারে, এরকম অজস্র প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর এ বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার ১০ দিন পর প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খবর দেয় সরকার।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (৩ আগস্ট) করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৫৮ জন; এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩২ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮৩ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯৬৪ জন, এখন পর্যন্ত মোট সুস্থের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত বিশ্বে ১৪১টি ভ্যাকসিন ডেভেলপ হয়েছে। হিউম্যান ট্রায়াল বা শেষ ও তৃতীয় ধাপে রয়েছে ২৫টি ভ্যাকসিন। এরমধ্যে থার্ড ফেইজের ট্রায়ালে রয়েছে চীনের তিনটি, অক্সফোর্ডের একটি, মডার্নার একটি ও ফাইজারের একটি। আর সবকিছু নির্ভর করছে থার্ড ফেইজে ট্রায়ালের রেজাল্টের ওপর।

ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই বা গ্যাভি-টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট) কাজ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, যখনই ভ্যাকসিন আসুক না কেন, সারা পৃথিবীর মানুষ যেন একসঙ্গে পায় সে বিষয়ে গত ৪ জুন গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিট হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এক্সেস ফ্যাসিলিটি বাকো-ভ্যাক্স’ ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে পৃথিবীর সবাই যেন সমহারে ভ্যাকসিন পায়।

বাংলাদেশ এক্সপ্রেসন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) সাবমিট করেছে গত ৯ জুলাই। কো-ভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি এবং গ্যাভি ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পাবে। কিন্তু ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত দেশ কিনে নেবে, আর আমাদের মতো মধ্যম আয়ের দেশ কো-ফাইন্যান্সিং হিসেবে যাবে। পৃথিবীর ১৭১টি দেশ এই কো-ফাইন্যান্সিংয়ের ভেতরে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য তারা গত তিন মাস ধরে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কিত গ্রাউন্ড ওয়ার্কও শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৮ জুলাই চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে বাংলাদেশে তাদের টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে চীনা ভ্যাকসিন সিনোভ্যাকের ট্রায়াল শিগগিরই শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তবে একইসঙ্গে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে দেশের ভ্যাকসিন আগে আসবে, তাদের কাছ থেকেই সেটা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘রাশিয়া ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকেও ভ্যাকসিন আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ এবং সেজন্য রাশিয়াকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আবার ভারতের সিরাম কোম্পানির উৎপাদিত অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের জন্য আমরা তাদের সুযোগ দেবো, তাই বাংলাদেশ যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পায় সেজন্য জোর দিয়েছি আমরা। একইসঙ্গে বিশ্বের ৮টি কোম্পানির ভ্যাকসিন ট্রায়ালের শেষ ধাপে রয়েছে, তারাও যদি ট্রায়ালের আগ্রহ দেখায় সেটাও আমরা বিবেচনা করবো।’

তবে বাংলাদেশ কী শুধু ট্রায়ালের বিনিময়েই ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা হবে না। ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ হচ্ছে, আমরা ভ্যাকসিন কেনার বেলাতেও পিছিয়ে থাকবো না।’

আবার দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের করোনার ভ্যাকসিন আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ ভ্যাকসিন বাজারজাত করতে পারবো বলে আশা করছি।’

ভ্যাকসিন কোনটা আগে পেতে পারে বাংলাদেশ প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা খুবই জটিল এবং কঠিন প্রশ্ন। এটা কেউ জানে না, বিশ্বেই কোনও ভ্যাকসিন কবে আসবে বা অনুমোদন পাবে সেটাই নিশ্চিত নয়, সেখানে বাংলাদেশ তো পরের কথা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে পারবে না, তাই প্রথমটা সে নাও পেতে পারে। আগামী পাঁচ মাস পর্যন্ত বোঝা যাবে না, কোন ভ্যাকসিন আগে আসবে। যেটা আবিষ্কার হবে- তার মধ্যে কোনটা বাংলাদেশে আসবে সেটা একটা ব্যাপার, তারপরের প্রশ্ন হচ্ছে- বাংলাদেশে সেই ভ্যাকসিন কী পরিমাণে আসবে এবং সেটা পয়সাতে আসবে নাকি বিনা পয়সায় আসবে। অজস্র প্রশ্ন, টোটালি আনসার্টেন এখন।

ভিন্নবার্তা/এসআর

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD