শিরোনাম

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে ২৪ ঘণ্টায়

আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ- মধ্যভাগের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একইসঙ্গে উন্নতি ঘটতে পারে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বর্ষাকাল বিদায় নিলেও মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় আছে এখনও। সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই থেমে থেমে কমবেশি বৃষ্টি হবেই। ফলে বন্যার পানি নেমে গেলেও বৃষ্টির ভোগান্তি থেকে সহজে মুক্তি মিলছে না বন্যা কবলিত মানুষদের।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। এটি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। একসঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ-মধ্যভাগের উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ওউল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।

গত ২৭ জুন অতি বৃষ্টি আর নদ নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সিলেট, রংপুর, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলার নদ নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রবিবার (২৩ আগস্ট) দেশের ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টের পানি ২ সেন্টিমিটার, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ৯, ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে ২৫ এবং পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, আগামী ৫ থেকে ৬ দিন এই আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। সাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। এটি আগামী ৫ থেকে ৬ দিন একই অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে সাগরে তিন এবং নদীতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, সিলেট ও ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে ১২২ মিলিমিটার। ঢাকায় ২৯, ময়মনসিংহে ৭, চট্টগ্রামে ৭১, সিলেটে ১৩, রাজশাহীতে ৪, রংপুরে ২, খুলনায় ৩ এবং বরিশালে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এখনও ৩৩টি জেলায় বন্যা অব্যাহত রয়েছে। এই জেলাগুলো হলো— সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট

বগুড়া, জামালপুর,সিলেট,রাজবাড়ী,মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল,ফরিদপুর,নেত্রকোনা, নওগা, শরীয়তপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ,, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাটোর, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নওগাঁ, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও পাবনা।

এসব জেলার ১৬০টি উপজেলার ১০২৬টি ইউনিয়ন এখনও বন্যা কবলিত অবস্থায় আছে। এসব ইউনিয়নের ৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৮টি পরিবার এখনও পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৭ মানুষ।

ভিন্নবার্তা/এসআর

আরো পড়ুুন