শিরোনাম

বন্ধ হচ্ছে না ছাত্রলীগ নেতার অবৈধ বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক,সাভার

ঢাকার ধামরাইয়ে দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করে এমনকি অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়ার পরেও অজ্ঞাত কারনে বন্ধ হচ্ছে না ছাত্রলীগ নেতার বংশী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ।
স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা না পাওয়ার কারনে স্থায়ীভাবে নদী থেকে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও অভিযানের আগেই বিভিন্ন উপায়ে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই নিরাপদে সটকে পড়ে অপরাধীরা।
এদিকে সরেজমিনে ধামরাইয়ের বাসনা এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য রুবেলের নেতৃত্বে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ এই বালু উত্তোলনের কাজে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রশিদ মিয়া নামে এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে ভ্র্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ড্রেজার দুটি পুড়িয়ে দিয়েছিলো। পরে স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে আবারও নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল।
আনন্দ সরকার নামে বাসনা গ্রামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য একটি সিন্ডিকেট এই নদী থেকে বালু উত্তোলন করলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে বেনজীর আহমেদ সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে। একাধীকবার রুবেলকে সতর্ক করার পরেও তাতে কর্ণপাত করেনি রুবেল। এদিকে বালু উত্তোলনের কারনে ইতিমধ্যে ভাঙ্গতে শুরু করেছে বংশী নদীর উভয় পাড়। যে কোন মুহুর্তে নদীপাড়ের বসতবাড়ি ও ফসলী জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ধামরাইয়ে কোন মিল-কারখানা বা অন্য কিছু নেই। তাই দলের (ছাত্রলীগ) ছোট ভাইয়েরা এইটা করেই চলে। এবিষয়ে নিউজ করে লাভ নাই ভাই, সবই ছাত্রলীগ এখানে, বাহিরের কেউ নাই।”

এদিকে ছাত্রলীগ নেতার এই বক্তব্যের সত্যতাও পাওয়া যায়। গত কয়েকদিন আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “ছাত্রলীগ নেতার নিয়ন্ত্রণে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলেও এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধামরাইয়ের সহ-কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার জানান, নদী থেকে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেলেই অভিযান চালানো হয়। তবে ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় জড়িতদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়না। এছাড়া স্থানীয়রাও ভয়ে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না, যার কারনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়না।
খোঁজ-খবর নিয়ে প্রতিবেদক কে এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।
এনএম/এআরএ/শিরোনামবিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন