শিরোনাম

‘বডিগার্ড’ হিসেবে পরিচিত পারভেজকে চেনেন না এমপি আফজাল!

কিশোরগঞ্জে স্থানীয় এমপির বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত ভয়ংকর সন্ত্রাসী ও বাজিতপুর উপজেলা যুবলীগের নামধারী নেতা মো. পারভেজকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার তিনি পিস্তল চুরির মামলায়ও ফাঁসছেন।

এ দিকে রোববার সকালে স্থানীয় এমপি আফজাল হোসেন মোবাইল ফোনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পারভেজ নামের ওই সন্ত্রাসী যুবক আমার বডিগার্ড কিংবা মোটরবাইক চালক নন। আমি তাকে ঠিকমতো চিনিও না।

এমপি দাবি করেন, ‘এ হাওর অধ্যুষিত এলাকার দুর্গম পথে কে কখন তাকে মোটরবাইকে বহন করেছেন, তা মনে থাকারও কথা নয়।”

তবে পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোটরবাইকচালক পারভেজের সঙ্গের ছবিটি তার বলে স্বীকার করেন এমপি আফজাল।

এ দিকে বাজিতপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি স্বপ্ন এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী এম এ হাসান লিটনের ‘থ্রি পয়েন্ট টু’ বোরের ওয়ালথার পিপি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল চুরির মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিই) পারভেজকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে আদালতে আবেদন করেছে।

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির উপস্থিতে সহকারী জজ আদালতে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের ১৬ লাখ টাকার চেক প্রতারণা মামলায় ৬ মাসের সাজা এবং কিশোরগঞ্জের আদালতে তার স্ত্রী কর্তৃক রুজুকৃত নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানায় পারভেজকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার দুপুরে তাকে কিশোরগঞ্জের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে রাখা হয়েছে।

ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পারভেজ ওই পিস্তল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করে। কিন্তু পিস্তল চুরির মামলা পিবিআই তদন্ত করায় আমরা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। তবে খবর পেয়ে পিস্তল চুরির মামলার তদন্তকারী পিবিআই কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক বাজিতপুর থানায় এসে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

পিবিআইয়ের কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল শফি জানান, রোববার দুপুরে এ পিস্তল চুরির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক এ সংক্রান্ত আবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন।

শুক্রবার গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে পারভেজকে গ্রেফতার করে বাজিতপুর থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, মোটরসাইকেল চুরি, দখলবাজি ও প্রতারণাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেনি এ পারভেজ। এক সময় মোটরসাইকেল চুরির ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে বাজিতপুর থানায় টানানো অপরাধীদের ছবির সঙ্গে তার ছবিও ছিল। কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু যুবলীগের লেবাস ধারণ করে স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি আফজাল হোসেনের বডিগার্ড বনে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি কেউ।

শুধু তাই নয়, তার দোর্দণ্ড রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী হিসেবে টাঙানো ছবি নামিয়ে ফেলে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পারভেজকে ফেরার দেখায় পুলিশ। কিন্তু আদালতের নির্দেশ এবং ওয়ারেন্ট তামিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একের পর এক তাগিদের কারণে তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় পুলিশ।

এক ভুক্তভোগী যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় এমপির মোটরসাইকেল চালায় সে। এলাকার বিভিন্ন স্থানে এমপিকে মোটরসাইকেলে বহন করে নিয়ে যায়। এমপির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল সে। কিন্তু প্রাণের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। তাকে চাঁদা না দিয়ে ভাগলপুর এলাকায় কেউ জমি ক্রয়-বিক্রয়, এমনকি বাসাবাড়িও তৈরি করতে পারত না। এভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যায়।

জানা গেছে, সন্ত্রাসী পারভেজ বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ভাগলপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। তার গ্রেফতারের খবরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অনেকে একে অপরকে মিষ্টি মুখও করিয়েছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন