শিরোনাম

বই পড়ায় অনীহা এবং জ্ঞানার্জন বিষয়ে আমাদের হিপোক্রেসি

পিয়াল খান

ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম থেকে প্রতনিয়িত জ্ঞান অন্বেষণকারী তথাকথতি আধুনিক বাঙ্গালী যখন বই পড়া আর লেখালেখি নিয়ে বিষদগার করে আমি তখন অবাক হই না। কারন তাদের কাছে বই পড়াটা সেকেলে এবং লেখালেখি করাটা মূল্যহীন। সারাদনি সস্তা সব জিনিস নিয়ে পড়ে থাকা আর বস্তুকেন্দ্রিক সুখে মেতে থাকা তাদের স্বভাব।
তাদের মতে এখন নাকি বই পড়া মানে সময় নষ্ট করা!
সবাই নাকি ফেইসবুক এবং ইউটিউব থেকেই যাবতীয় সব জ্ঞান পেয়ে যায়!
কিন্তু তারা ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম থেকে কতটুকু জ্ঞান আহরোণ করেছেন তার সদুত্তর পাওয়া যায় না।
বরঞ্চ তাদের প্রোফাইল ঘাটলে দেখা যায় তারা এন্টারটেইনমেন্টের বাইরেও সবসময় মেতে থাকে সমস্ত সস্তা কন্টেন্টে। তাহলে কোথায় গেলো তাদের জ্ঞানচর্চা?
এভাবইে তারা হতে চায় তাদের আইকন বিল গেটস, ইলন মাস্ক কিংবা মার্ক জুকারবার্গদের মত কেউ। তাদের নাকি দেশের আইকনদের পছন্দ না। তারা মডার্ণ, সবকিছুতে ওয়েষ্টার্ণ ফলো করে। তাই আইকনও হতে হবে ওয়েষ্টার্ণ ওয়ার্ল্ডের কেউ।
ওয়েষ্টার্ণ আইকনদের উদ্ভাবনকৃত প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে তাদের অনুকরণ করাটা কিংবা তাদের মত বিলাসবহুল জীবনের অধিকারী হতে চাওয়াটা দোষের কিছু না।
কিন্তু বিল গেটস, ইলন মাস্ক, মার্ক জুকারবার্গদের মত ইনোভেটিভ এবং জিনিয়াস হতে গেলে যে জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। এবং সেই জ্ঞানের মূল উৎস যে বই তা তো স্বীকার করতেই হবে। আমরা কি জানি, যাদের মত হওয়াটা আমাদের জীবনের স্বপ্ন, তারা প্রতিদিন ঠিক কত ঘন্টা করে বই পড়েন?
একটু নেট ঘেটেই না হয় দেখে নেবেন। বিভিন্ন সময় আইকনরা নিজেদের মুখেই বলেছেন যে বই পড়ার ক্ষেত্রে তারা কতটা ডেডিকেটেড এবং তাদের সাফল্যের পেছনে বইয়ের অবদান কতটুকু!
বই না পড়ে ওয়েষ্টার্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদিন সস্তা বিনোদনে মেতে থেকে আবার ওয়েষ্টার্ণ আইকনদের মতই ইনোভেটিভ হতে চাইবো, কিভাবে সম্ভব হবে এমন অসম্ভব?
সম্ভব না। এজন্যই ওরা ফেইসবুক আর ইউটিউব বানায় আর আমরা হয়ে থাকি ইউজার।

আরো পড়ুুন