1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
ফসল রক্ষায় হাওরবাসীর দীর্ঘ দাবির বাস্তবায়ন,স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ |ভিন্নবার্তা

ফসল রক্ষায় হাওরবাসীর দীর্ঘ দাবির বাস্তবায়ন,স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ

ভজন দাস, নেত্রকোনা
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় হাওরপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ। এতে করে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে মোহনগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার বোরো ফসলী জমির ধান।

এলাকাবাসী জানায়,জেলার মোহনগঞ্জে ডিঙাপোতা হাওরের অস্থায়ী মাটির বাঁধ প্রায় প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে ভেঙ্গে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাওরপাড়ের হাটনাইয়া,মাঘান, ভাটিয়া, নারাইচ, মল্লিকপুর, চেছরাখালী(আদর্শনগর), নলজুরী, পালগাঁও, রানাহিজল, গাগলাজুর, পাবইসহ আশপাশের কমপক্ষে ১৫টি গ্রামের বোরো ফসলের। এতে করে বছরের একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে কপাল পুড়ে এলাকার হাজারো কৃষকের। এলাকার কৃষকরা সারা বছর অর্থ কষ্টে ভোগেন। এলাকাসীর দীর্ঘদিন দাবি ছিল ডিঙাপোতা হাওরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।

বিগত ২০১৭ সালে ডিঙাপোতা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে মোহনগঞ্জের কয়েক হাজার কৃষকের প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফলনকৃত ১৫২ কোটি টাকার ধান সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়। এরপর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও বিমান বাংলাদেশ পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হন। গত বছরের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ সফরে এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। ওই দাবির প্রেক্ষিতে নির্মিত হচ্ছে বøক বসিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। এবার বেড়িবাঁধে স্থায়ীকরণ উভয় পার্শ্বে উপরিভাগসহ সিসি বøক (পাথর, সিমেন্ট) বসিয়ে মোড়ানো হয়েছে। এতে করে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল ডুবির আর শঙ্কা থাকবে না।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরের ফসল রক্ষার জন্য চর হাইজদা ডুবন্ত বাঁধ হচ্ছে ৩০ কিলোমিটার। এরমধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার কিলোমিটার। বেড়িবাঁধে শক্তিশালী করে উভয় পার্শ্বেসহ উপরিভাগ সিসি ব্লক বসিয়ে বাঁধ মোড়ানো হয়েছে। এসব কাজের ১১টি প্যাকেজের মধ্যে ৭টি কাজ করে যৌথভাবে ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই বাঁধ নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

ডিঙাপোতা হাওরের গাগলাজুর, মাঘান, সিয়াদার, হাইজদা বাঁধ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা ব্লক বসিয়ে কাজ করছে। ফসলের মাঠ থেকে বাঁধ অনেকটা উচু। আবার কোন কোন জায়গায় হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট করে দেওয়া হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, হাইজদা বাঁধের পুরো অংশ স্থায়ীকরণ করা হলে ডিঙাপোতা হাওরের ফসল উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নষ্ট হবে না।

মোহনগঞ্জের নলজুরী গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, এই বাঁধ হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এখন আর সহজে বোরো ফসল পানিতে ডুবে যাবে না। সরকার আমাদের দিকে চেয়ে এবং আমাদের দাবি পূরন করেছে। আমরা এলাকাবাসী সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। মাঘান গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন,বাঁধ নির্মান হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এখন আর আমাদের কষ্টার্জিত একমাত্র ফসল নষ্ট হবে না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কারনে অকাল বন্যার হাত থেকে আমাদের এলাকার ফসল রক্ষা পাবে। সারা বছর আমাদের সংসার চালাতে আর কোন কষ্ট হবে না। মান্দারবাড়ি গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, হাওরের বাঁধ ভাঙ্গার ফলে জীবন শেষ। এখন বাঁধ হওয়ায় আর ফসলহানির আশঙ্কা থাকবে না। তাই এ বাঁধ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। এটাই এখন হাওরের কৃষকদের পরম পাওয়া।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, হাইজদা বেড়ি বাঁধের সাড়ে ৫ কিলোমিটার শক্তিশালী ও স্থায়ীকরণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এ বাঁধ প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি ১২- ১৪ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্প কাজ শেষ হলে সমগ্র ডিঙাপোতা হাওরের একমাত্র বোরো ফসল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষা পাবে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, হাওর এলাকার কৃষকদের উপকারের জন্য সরকার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে হাইজদা বাঁধ অন্যতম। ওই বাঁধ নির্মাণের ফলে হাওরের ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এলাকার কৃষকরা ফসলহাণির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

ভিনন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD