
অন্য সাধারণ মেয়েদের মতোই গ্রামের ছিমছাম-ভদ্র মেয়ে ছিল শামছুন্নাহার স্মৃতি (পরীমনি)। নড়াইলের কালিয়ারবাকা গ্রামের বাসিন্দা হলেও বাবার মৃত্যুর পরে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া নানা বাড়িতে শৈশব কাটে তার।
সেখান থেকেই এসএসসি সম্পন্ন করেন পরীমনি।
২০১০ সালে একই গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ফেরদৌস কবীর সৌরভ এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে গ্রামের বাড়িতে (দাদা বাড়ি) বেড়াতে এলে পরীমনির সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের এপ্রিলে পরীমনি যশোরের কেশবপুরে সৌরভের বাড়িতে চলে আসেন।
এরপর ওই বছরের ২৮ এপ্রিল পৌরসভার এমএমআর ও কাজী এম ইমরান হোসেন এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের কাবিনে (নিকাহনামা) পরীমনির নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। সেখানে নিজেকে কুমারী হিসেবে উল্লেখ করে জন্ম তারিখ লেখেন ১৫ ডিসেম্বর ১৯৯২।
এরপর সৌরভের বাড়িতে প্রায় এক বছর সংসার করেন পরীমনি। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে ঢাকার একটি ক্লাবে ফুটবল খেলার ডাক পান সৌরভ। তখন স্ত্রী পরীমনিকে নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি জমান সৌরভ। প্রথমে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর ও পরে বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নেন। ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাবে খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন সৌরভ। পরে স্ত্রী পরীমনিকে মিরপুরের একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করেন। ঢাকায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতেও চলছিল তাদের সুখের সংসার।
সেসময় পরীমনি নানা বাড়ির দিকের দুঃস্পর্কের এক ফুফুর সাভারের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। এর কয়েক মাস পর থেকেই পরীমনি মিডিয়ায় পা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়।
পরীমনির প্রথম স্বামী সৌরভ জানান, আমি প্রথমেই মডেল কিংবা মিডিয়ার কাজকে অপছন্দ করি সেটা জানিয়ে দেই। তারপরও ওর (পরীমনি) মডেলিংয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যাচ্ছিল এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল না। তখনই, দু’জনে আলোচনার মাধ্যমেই আলাদা হই।
তবে পরে পরীমনির একাধিক বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে এখনো তালাক হয়নি বলে দাবি সৌরভের। তিনি জানান, এখনো আমাদের অফিসিয়ালি ডিভোর্স হয়নি। তবে, বিগত বছরগুলোতে তার কাছে প্রয়োজন না হওয়ায় যোগাযোগ করেননি! দু-তিন দিন ম্যাসেঞ্জারে হাই-হ্যালো হয়েছে তাদের!
সাভারের বোর্ট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনির খোঁজ নিয়েছেন কিনা সে প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘না, সে এসব ব্যাপারে আমাকে বলবে না। কারণ, সে জানে এসবে আমি সাপোর্ট তো দূরের কথা অপছন্দ করি!’
কেশবপুর পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর শাহানা কবির ফতেমার ছোট ছেলে ফেরদৌস কবীর সৌরভের নিকটজনেরা জানান, ২০১৮ সালে সৌরভের বাবা পুলিশে কর্মরত জাহাঙ্গীর কবির স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে কেশবপুরে ফিরে আসেন সৌরভ।
সৌরভ কবিরের একজন প্রতিবেশী জানান, মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর পরীমনি সৌরভকে তাদের কেশবপুরের বাড়ি বিক্রি করে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য উৎসাহিত করেন। ওই সময় সৌরভ ঢাকায় বিজিএমসি ফুটবল দলের খেলোয়াড়। এক পর্যায়ে তারা কেশবপুরের বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তবে পরীমনির উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা শুরুর কারণে তারা ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ