
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওর এলাকায় কয়েক একর পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল এবং পাকা চাতাল (ধান শুকানোর মাঠ) ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সমির উদ্দিন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে
এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের কয়েক একর পৈতৃক জমি সম্প্রতি সমির উদ্দিনের লোকজন দখল করে নেয়। পরে জমির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির ওপর নির্মিত একটি বড় পাকা চাতালের (ধান শুকানোর মাঠ) কংক্রিটের ঢালাইও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
খলিলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই চাতালটি শুধু তাদের নয়, গ্রামের বহু কৃষকের একমাত্র ফসল বোরো ধান শুকানোর ভরসা ছিল। প্রতি মৌসুমে গ্রামে উৎপাদিত হাজার হাজার মণ ধান সেখানে শুকিয়ে ঘরে তোলা হতো। চাতালটি ভেঙে ফেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
ভুক্তভোগী খলিলুর রহমানের বোন বেবী আক্তার ও রওশনা আক্তার এবং ভাই ইছহাক মিয়া বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোর করে দখল করে নিয়েছে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায়। চাতাল ভেঙে আমাদের সর্বনাশ করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দখল ও চাতাল ভাঙার বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও সমির উদ্দিন ও তার লোকজন তা আমলে নেয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সমির উদ্দিন দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তার উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত। এ সংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। সম্প্রতি আদালত তার পক্ষে ডিক্রি দিয়েছেন। ডিক্রি পাওয়ার পর আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি জমির দখল নেন এবং সেখানে থাকা স্থাপনা অপসারণ করেন বলে জানান।