1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় বিপর্যস্ত বিএনপি - |ভিন্নবার্তা
৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় বিপর্যস্ত বিএনপি

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৫ pm

টানা ১৪ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। সাংগঠনিক দুর্বলতা আর নেতৃত্ব সংকটে বর্তমানে চরম দুঃসময় পার করছে দলটি। তবে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে আবদ্ধ এই দলটি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিএনপির এই দুঃসময়ে পাশে থেকেও নেই দলটির মূল কাণ্ডারি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগারের বাইরে থাকলেও শর্তের জালে আটকে দলের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে পলাতক। দলে তার নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে সিনিয়র নেতারা কেউই খুশি নন। দলীয় চেয়ারপারসনকে নেতাকর্মীরা রাজনীতিতে সক্রিয় দেখতে চান। তবে এমন ইচ্ছা শিগগির পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। শারীরিক অবস্থা ও আইনি জটিলতাসহ পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার রাজনীতিতে ফেরা অনিশ্চিত। সূত্রগুলো বলছে, সরকারও চায় না খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে। তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়ার সময়েই তা নিশ্চিত করা হয়।

গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয় সরকার। ওই আদেশে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে পারবেন কিনা, তার উল্লেখ না থাকলেও নেপথ্যে এই কারামুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, এ সময়ে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন, বিদেশে যেতে পারবেন না। সব শর্তই তিনি মেনে চলছেন। বিএনপির নেতাদের আশঙ্কা, খালেদা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সরকার আবার তাকে কারাগারে পাঠাতে পারে। তাই যেহেতু চেয়ারপারসনের মুক্তিতে দলের কোনো ভূমিকা নেই, তাই আপাতত তার শর্ত মেনে চলাই উত্তম। সে জন্য গত পাঁচ মাসে এ বিষয়ে দলের নেতারাও ছিলেন খুব সতর্ক।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ছয় মাসের সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী জামিনের জন্য ফের আবেদন করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। আবেদনে বিদেশে যেতে না পারার শর্তটি শিথিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বেশ কয়েক বছর ধরে ডায়াবেটিস, বাত ও চোখের সমস্যাসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। পরিবার মনে করছে, তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যৌথ নেতৃত্বে চলছে বিএনপি। তিনি লন্ডনে বসে দল পরিচালনা করলেও তা সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এক প্রকার অন্ধকারে। এ সময়ে দলের তরফে বড় কোনো সিদ্ধান্ত যেমন আসেনি, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে করা যায়নি জোরালো। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, জনসমর্থন তুঙ্গে থাকলেও দশকজুড়ে টানা বিপর্যয় এবং নানামুখী সাংগঠনিক দুর্বলতায় তা সম্ভব হয়নি। সবমিলে আন্দোলনে ব্যর্থতা ও মামলার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রধান শক্তি হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তিনি দল ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক। কিন্তু দুই বছরের ওপর তার কারাভোগ, তারপর শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তির পর নীরবতায় বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছেন নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ও মনোবল ফিরিয়ে আনতে নীতিনির্ধারকদের সঠিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের সামনে এনে দ্রুত দল পুনর্গঠনে হাত দেয়ার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে বিপর্যয়ে পড়লেও দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না বলে প্রত্যাশা তাদের।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছিল আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে। সেই শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী লীগই। সেই শূন্যতা কাটাতে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তায়। জন্মের ৪০ বছর পরও সেই দলের প্রয়োজনীয়তা একই রকম রয়েছে।
তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই হবে বিএনপির অঙ্গীকার।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বাধীনতার পক্ষের এ দলটি যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় রাজনৈতিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। যে কোনো বিষয়ে প্রতিপক্ষ বারবার জামায়াতকে সামনে এনে বিএনপিকে ধরাশায়ী করছে। দেশের জনগণের বড় একটি অংশও বিএনপির এই কৌশল পছন্দ করছে না। তাই এখন সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ত্যাগ করে বিএনপিকে আপন শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে। তাহলে দেশের সুশীল সমাজসহ বড় একটি অংশের সমর্থন বিএনপি পাবে।

বিএনপির বর্তমান দুর্দশার কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন, বিগত নির্বাচনের আগে হঠাৎ নতুন জোট গঠন করা, গণভবনে সংলাপে যাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর কাছে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের একটি তালিকা ধরিয়ে দেয়া দলটির কৌশলগত ভুল ছিল। এসব করে কোনো সুফল অর্জন করতে না পারা, নির্বাচন পরবর্তী জোরদার আন্দোলন গড়ে না তুলতে না পারাসহ নানা ইস্যুতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।

সিটি কর্পোরেশন ও উপনির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়ার প্রশ্নে একবার ‘না’ একবার ‘হ্যাঁ’, সংসদে মির্জা ফখরুলের যোগ না দেয়া, ভোটের পর ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিকে বিসর্জন দেয়া, সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের ওপর খুব একটা ভরসা রাখতে পারছে না। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরস্পরের বিরুদ্ধে অনুরাগ-বিরাগ প্রকাশ করার মধ্যেও দলটির দুর্বলতার লক্ষণ স্পষ্ট। স্থায়ী কমিটিকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহাসচিব মির্জা ফখরুলও তারেকের অবজ্ঞার কারণে পরিণত হয়েছেন ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারে’।

জানতে চাইলে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, অন্যদিকে অসুস্থ। রাজনীতিতে তিনি এখন ইনভ্যালিড। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক থাকায় তাকে দিয়ে বিএনপির হাল ধরা সম্ভব নয়। তাই খালেদা জিয়া যদি নাতনি জায়মাকে প্রমোট করেন; তার পাশে থেকে উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ দিয়ে দলে পোক্ত অবস্থান তৈরি করে দিতে পারেন- তাহলে সেই পারবে বিএনপির যোগ্য নেতৃত্বশীল হয়ে উঠতে। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে যে অবস্থায় পড়ে আছে সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাউন্সিল করে প্রতিটি কমিটিতে তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব আনা উচিত।

১৯৭৮ সালের এ দিনে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধ সামনে রেখে তৎকালীন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন। প্রথমে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। একই বছরের ১ মে সমমনা দল ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গঠন করেন জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। ১৯৭৮ সালের ২৮ আগস্ট জাগদল বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। তিন দিন পর ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে জিয়াউর রহমান নতুন দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), এর গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিএনপির গঠনতন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ৯ জন। তাদের মধ্যে বিচারপতি আবদুস সাত্তার, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী অন্যতম।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি : দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত ২৬ আগস্ট এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১১টায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সাড়ে ১১টায় মহানগর দক্ষিণ ও বেলা ১২টায় উত্তরের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিকাল ৩টায় বিএনপির উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হবে। এছাড়াও সারাদেশে জেলা-উপজেলায়ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করবেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ উপলক্ষে পোস্টার ছাপানো হয়েছে এবং বিশেষ ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করা হবে।

ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD