1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :

নেতৃত্বে ব্যক্তিত্বে কাজল সেখ

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০ ৯:২২ pm

অনেকেরই মনে হতে পারে কাজল সেখ কি এমন? তাঁর আবার নেতৃত্ব বা ব্যক্তিত্ব! এ নিয়ে আবার আলোচনার কি আছে? যারা এটা মনে করছেন তাদের মতের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। তবে যেহেতু আমি কাজল সেখ এর প্রসঙ্গ তুলেছি নিশ্চয়ই এ বিষয়ে আমার কাছে যে কেউ এ নিয়ে ব্যাখা চাইতেই পারেন।

না, কাজল সেখ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নন, তিনি জাতীয় নেতাও নন, তিনি সন্ত্রাসবাদের তীর্থভূমি পাকিস্তানী জঙ্গিদের খতম করেন নি । তিনি জুকারবার্গ, বিলগেটসদের মতো ফেসবুক,টুইটার বা মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতাও করেন নি। কাজল সেখ কলম্বাসের মতো কোনো আমেরিকা আবিস্কার করেন নি বা মহান নেতা সুভাস বোসের মত কোনো দেশের স্বাধীনতা এনে দেননি।

হ্যাঁ, কাজল সেখ হচ্ছেন ভারতবর্ষের পশ্বিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার দক্ষিণ পূর্বে অজয় ও ময়ূরাক্ষী নদীর মিলিত অববাহিকায় অবস্থিত বৈষ্ণব কবি চন্ডিদাস আর কেন্দুলি কবি জয়দেবের জন্মস্থান নানুর যার আয়তন মাত্র ৩০৯.২ বর্গ কিলোমিটার এই এলাকার একজন মাটির মানুষের নাম। অত্র এলাকার মাটি ও মানুষের রক্ষা কবচের নাম কাজল সেখ। এলাকার মানুষ যাকে ভালোবেসে বলে রবিন হুড। তিনি বীরভূমের রবিন হুড।

কাজল সেখ এ জন্যেই আমার কাছে প্রাসঙ্গিক কারণ বর্তমানে আমরা এক বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের কবলে আছি। যে পরিস্থিতি জানিনা কে কতক্ষন আছি সুন্দর এ বসুন্ধরায়। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যিনি নানুরের মাটি ও মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি হলেন কাজল সেখ। ভারত বর্ষের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অলঙ্কার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শের প্রকৃত সৈনিক বাংলার রাজনীতির আরেক কিংবদন্তী অনুব্রত মন্ডলের পরীক্ষিত সহচর কাজল সেখ।

না, এই দু’চার লাইনে কাজল সেখকে বাঁধা যাবে না। কারণ নেতৃত্ব ব্যক্তিত্বগুণে কাজল সেখ বিশ্বের বুকে অনন্য একটি নাম। হ্যাঁ বিশ্বের বুকে। শ্রমে, গুণে, নৈপুণ্যে, দক্ষতায় প্রতিনিয়ত তিনি তাঁর যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।

অদৃশ্য ভাইরাস করোনা থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে গ্রামের মোড়ে মোড়ে যিনি দিন রাত পাহাড়া দিচ্ছেন তার নাম কাজল সেখ। গ্রামের কেউ বাইরে বেরোলে বের হওয়ার কারণ শুনছেন ধৈর্য্যসহকারে, সবার হাতে ধোঁয়াও নিশ্চিত করছেন। লকডাউনে কর্মহীন মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে সে জন্যে স্থানীয় পাপাড়ি গ্রামসহ পার্শবর্তী এলাকায় অসহায় দরিদ্র্ মানুষকে চাল,ডাল, চিনি, জীবানুননাশক সাবান দিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবহেলা করছেন, তামাশা করছেন সেখানে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্রয়স্থল, ভরসাস্থল কাজল সেখ। এখানেই শেষ নয়, এলাকার কচি শিশুদের মুখে হাসি ফোঁটাতে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন বিস্কুটের প্যাকেট। না, এটা রাষ্ট্রসংঘ, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুদান নয়, এটা কাজল সেখের সম্পূর্ণ ব্যক্তিতগত উদ্যোগ। এখানেই শেষ নয় কাজল সেখের অধ্যায়।

কাজল সেখ নামটি নানুরের সমর্থক। অর্থাৎ কাজল সেখ মানেই নানুর আর নানুর মানেই কাজল সেখ। হ্যা, তাই।

বাম আমলে এই নানুর ছিলো গুলি, বোমা, রক্তক্ষয়ী অশান্তভূমি। ২০০০ সালে এখানে ১১জন খেত মজুরকে হত্যা করে তৎকালীন রাজ্যের শাসকগোষ্ঠির দানব রূপি নেতারা। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে যে বজ্রকণ্ঠটি উচ্চারিত হয় তাঁর নাম কাজল সেখ। অশান্ত নানুরকে যিনি শান্তির আবাসভূমি প্রস্তুত করেছেন তার নাম কাজল সেখ। শুধু তাই নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জঘন্য নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিচারের দাবি এবং নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ আদায়ে যিনি সর্বদা সামনের সারিতে সোচ্চার তার নাম কাজল সেখ। যিনি লোভ লালসার উর্ধে থেকে পার্টির সিনিয়র নেতাদের হুঙ্কার দিয়ে প্রকাশ্যে বলতে পারেন, ‘চাকরী যদি সবাই পেয়ে থাকে তাহলে আলী হোসেনের মা কেন বলছেন, তার পরিবারের কেউ চাকরী পায়নি।’ এ কারণে অবশ্য নানুরের এই বিপ্লবী শান্তির দূতকে নিয়ে কিছু মানুষ ইনিয়ে বিনিয়ে নোংড়া মন্তব্য করার চেষ্টা করে থাকেন। ঠিক ব্রিটিশরা যেমন ক্ষুদিরামকে রাষ্ট্রদ্রোহী তকমা দিয়েছিলো। সেই ব্রিটিশদের প্রেতাত্মারা কাজল সেখকে নিয়ে যদি কিছু বলার চেষ্টা করে, তাহলে তারা কি বলতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়। বাংলার সূর্য সন্তান ক্ষুদিরাম, সুভাস বোষ, বাঘা যতীন, বিনয় বাদলরা যেমন স্বাধীন স্বার্বভৌম ভারত বর্ষ উপহার দিয়েছেন, কলম্বাস আমিরেকা দিয়েছেন, তেমনি কাজল সেখ নানুরকে শান্তির আবাসভূমি গড়ে তুলেছেন। বিলগেটস, জুকারবার্গরা যেমন ভার্চুয়ালি গোটা বিশ্বে সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। তেমনি কাজল সেখ অশান্ত অগ্নিগর্ভ নানুরের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আত্নার বন্ধন গড়ে তুলেছেন। যেভাবে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আয়লা, ফনী, আম্ফান থেকে আমাদের রক্ষা করতে সুন্দরবন যেমন বুক চিতিয়ে দিয়েছে। সেভাবে নানুর এবং নানুরের লোকজনকে রক্ষা করতে বোমা, গুলির সামনে তার বুক চিতিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাস প্রথার অবসান ঘটান এবং মুক্তি ঘোষণার মাধ্যমে দাসদের মুক্ত করে দেন। তেমনি নানুরকেও দাঙ্গাবাজ, রক্তের হোলি খেলোয়ারদের থেকে মুক্ত করেন আজন্ম যোদ্ধা কাজল সেখ।
এ কারণেই বলেছি, নেতৃত্বে ব্যক্তিত্বে বিশ্বের বুকে অনন্য যে উদাহরণ সেটা হচ্ছে নাম কাজল সেখ। বিশ্বের নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন কাজল সেখ। সত্যিই কাজল দাদাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি ভাবতেই বকুটা গর্বে ভরে ওঠে। দাদা তোমায় স্যালুট। এগিয়ে চলো তোমার সাথে আছি।

লেখক: শিল্পী মুরারই, তৃণমূল কর্মী



আরো




মাসিক আর্কাইভ