শিরোনাম

নির্যাতন সইতে না পেরে দেশে ফিরতে চান সৌদি প্রবাসী ‘সুমি’

নিজস্ব প্রতিবেদক (সাভার)

সংসারে যখন টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে চলছে তখন একটু সুখের আশায় ভিনদেশে যেতে চান সুমি। সেই সাথে বিনামুল্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাওয়ায় সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। তাই দালালদের দেখানো লোভ আর বিদেশ বাড়ি গিয়ে ভালো টাকা ইনকামের আশ্বাসে বিনামূল্যে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি।

কিন্তু সুমিকে যে দালালরা বিদেশ পাঠানোর কথা বলে বিক্রি করে দিয়েছে সেটি তিনি জানতেন না। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহ খানেক পর থেকে শুরু হয় তার উপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কান্নাজড়িত কন্ঠে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান তিনি৷ পরবর্তী এই ভিডিওটি রিতিমত ভাইরাল হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সুমির সেই ভিডিওটির সূত্র ধরে শনিবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন সুমি। পরে গত ৩০ মে ‘রুপশী বাংলা ওভারসিজ’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরিবিয়ান এয়ার লাইন (এস ভি) ৮০৫ যোগে সৌদি যান সুমি। সেখানে যাওয়ার পর সব সময় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার উপর হয়ে যাওয়া নির্যাতনের ঘটনায় বলেন সুমি।

সুমি আক্তার পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। দুই বছর আগে আশুলিয়ার চারাবাগের নুরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

ভাইরাল ভিডিওটিতে সুমি কান্নাজরিত কন্ঠে বলেছেন, ‘আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই৷ আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। এখানে আমার উপর অনেক নির্যাতন হয়৷ আর কিছুদিন থাকলে হয়তো মরেই যাবো৷ তাই প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।’

এ ব্যাপারে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, সৌদিতে যাওয়ার পরপর তার উপর নানা ভাবে নির্যাতন চলে। আমার সঙ্গে মাঝখানে যোগাযোগ করতে দেইনি। এরপর যখনি আমার সঙ্গে কথা হয় তখনি সুমি বাড়ি আসতে চায়। সে আর সৌদিতে থাকতে চায় না। আমি গত (১১ সেপ্টম্বর)পল্টন থানায় সেই এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেনের নামে সাধারণ ডাইরি (জিডিও) করেছি। এছাড়া ন্যায় বিচারের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান রপ্তানি ব্যুরোর মহাপরিচালকের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দেই।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে গিয়েও আমার স্ত্রীকে বিদেশ থেকে আনার এখনো কোনো রাস্তা পেলাম না। আমার স্ত্রী খুব কষ্টে আছে যখনি সে আমাকে ফোন দেয় কান্নাকাটি করে। দেশে ফিরতে চায়। তাই সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ আমার স্ত্রীকে যেন তারাতারি আমাদের দেশে আনা হয়৷ নয়তো সে নির্যাতন সইতে না পেরে মরেই যাবে।

এ বিষয়ে স্থানী জনপ্রতিনিধি মেম্বার হোসেন আলী বলেন, আমরা ভিডিওটি দেখার পর সুমির স্বামীর সঙ্গে কথা বলি। সেই সাথে তার স্বামীকে সব রকমের সাহায্য করছি। যেনো মেয়েটা দেশে ফিরতে পারে।

এবিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান রপ্তানি ব্যুরো ডিরেক্টর অব এমপ্লয়মেন্ট আতিকুর রহমান বলেন, মেয়েটির পরিবার এসে যোগাযোগ করলে অতিসত্বর এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিউর বলেন, নুরুল ইসলাম একটি জিডি করে। পরবর্তীতে আমি তাকে মামলা দায়ের করতে বলি। মামলা দায়ের হলে সেই এজেন্সির বিরুদ্ধে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো৷

এসএফ/শিরোনামবিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন