শিরোনাম

নতুন ১৮ ওয়ার্ড উন্নয়নে ৪ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে উত্তর সিটি

শফিকুল ইসলাম :

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন ১৮ ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা কোন ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। দেয়া হয়নি জনবল নিয়োগও। অথচ এসব ওয়ার্ডে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়েছে।
এদিকে, এসব ওয়ার্ডে নেই কোন কাউন্সিলর কার্যালয়। ফলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরেও শুধুমাত্র অফিস না থাকা ও দায়িত্ব পালনের কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় কোন ধরনের নাগরিক সেবা পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সম্প্রতি এসব ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ পাচ্ছে ডিএনসিসি। ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। এরফলে এসব এলাকার বাসিন্দারা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের প্রথমে দুই সিটির সাথে যুক্ত হয়েছে ১৬ টি ইউনিয়ন। এরমধ্যে উত্তর সিটির সঙ্গে রয়েছে বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি (খিলক্ষেত) এলাকা। আর দক্ষিণের সাথে রয়েছে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদিকে, কেবল আয়তনেই নয় সেই সঙ্গে রাজধানীর জনসংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। দুই সিটি এলাকার আয়তন আগে ছিল ১২৯ বর্গকিলোমিটার বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে। কিন্তু এসব এলাকার বাসিন্দারা কোন ধরনের সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছে না। অথচ তাদের কাছ থেকে অন্যান্য এলাকার মতই ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সব ধরনের সুবিধা পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্তৃপক্ষের দাবি রাজধানীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে উভয় দুই সিটিকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। আবার নতুন করে ঢাকার আয়তন বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশনের ওপর চাপ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ডিএনসিসির নতুন ওয়ার্ডগুলো উন্নয়নে চার হাজার ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ টাকা বুঝে পেলে ডিএনসিরি নতুন আটটি ওয়ার্ডকে নতুন করে সাজানো হবে। প্রথমে প্রতিটি সড়ক প্রশস্ত ও নতুন করে ড্রেন নির্মাণ কাজ করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নমূলত কাজ করা হবে। জানা গেছে, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে, ডিএনসিসির সাথে নতুন যুক্ত হওয়া ৮ ইউনিয়নের ১৮ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নাগরিকসেবা চালু রাখতে ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ভাড়া করা ভবনেই অফিস কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে ডিএনসিসি। অস্থায়ীভাবে এসব ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জনবল না থাকার পরও নাগরিকসেবা নির্বিঘœ করতে বর্তমানের পুরান সব কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের নিজ দায়িত্বের বাইরেও নতুন যুক্ত হওয়া ৫ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, মেয়র আতিকুল ইসলাম নতুন ওয়ার্ডগুলো উন্নয়নে বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন অফিস ভবন, কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ, অফিস ভবন নির্মাণসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন যুক্ত এলাকায় নাগরিক সেবা বাড়াতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব উদ্যোগে কাউন্সিলরদের তাদের অফিস পরিচালনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। তবে জনবল নিয়োগের পর সাচিবিক কার্যক্রমের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে সচিব নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এর আগ পর্যন্ত নিয়মিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাউন্সিলরদের বিশেষ সহযোগিতা দেয়ার জন্য কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, ডিএনসিসি এলাকার সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে ১৩টি খাল রয়েছে। এসব খাল ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। খালগুলো যে কোন মূল্যে পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম। আতিক বলেন, ডিএনসিসির সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে ১৩টি খাল রয়েছে। ২৯ কি.মি. দীর্ঘ এসব খালের যে অংশ অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে উন্নয়ন কাজ করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিমধ্যে চার হাজার ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। আমার প্রথম কাজ হচ্ছে এসব এলাকায় রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করা। দ্বিতীয় কাজ রাস্তা চওড়া করা। সরু রাস্তাগুলো অবশ্যই প্রশস্ত করতে হবে। এ কাজে আমাদেরকে জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীগণ সাহায্য করছে। আমরা রাজউককে চিঠি দিয়েছি, এ এলাকায় যেন কোনো ধরনের ভবন নির্মাণের প্ল্যান দেয়া না হয়। আমি কাউন্সিলরদেরকে বলেছি, এ এলাকায় আর যাতে কোনো বাড়ি না হয়।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুুন