শিরোনাম

দেশের ইতিহাসে পোশাক শিল্পে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তাজরীন ট্র্যাজেডি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ইতিহাসে পোশাক শিল্পের একটি কালো অধ্যায় তাজরীন ট্র্যাজেডি। যে ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান ১১৩ জন এবং আহত হন প্রায় দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক। আজ ২৪শে নভেম্বর এই ভয়াবহ তাজরীন ট্র্যাজেডির সাত বছর। দীর্ঘ সাত বছরেও এর শঙ্কা কাটেনি, এ ঘটনায় এখনো হয়নি দোষীদের শাস্তি। বলছিলাম রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বরে ঘটে যাওয়া মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের কথা। দেশের ইতিহাসে শতাধিক শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ট্র্যাজেডি এটাই প্রথম।

২০১২ সালের এই দিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আকাশ ভারী হয়েছিল তাজরীনের শ্রমিকদের আর্তনাদে। কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়েছিল পুরো এলাকা। আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠেছিল ওই এলাকার মানুষের চোখে মুখে। তাজরীন দুর্ঘটনার ৬ বছর শেষ হয়ে আজ ৭ বছর, কিন্তু এখনো আতঙ্ক কাটেনি শ্রমিক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ওই এলাকার স্থানীয়দের। এখনো তাজরীনের জরাজীর্ণ ভবনের পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও আঁতকে উঠেন এলাকাবাসীর অনেকেই।

তাজরীন ভবনের পাশেই থাকেন মোঃ ইয়ার হোসেন (৬৫)। কান্নার সুরে তিনি বলছিলেন, সেই ভয়াবহ দিনের কথা শ্রমিকদের আর্তনাদ, তাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার এখনো কানে ভেসে আসে। আগুনের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছিল চারপাশ। আগুনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হতে দেখেছি। সেদিন আসলে নরকে পরিণত হয়েছিল আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর। এ ঘটনা যখনই মনে পড়ে তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

তাজরীনে আহত শ্রমিক জাহিদুল (৩২) বলেন, আমি তাজরীনের ৪র্থ তালায় কাজ করতাম। আগুন লাগার পরে সিঁড়ি দিয়ে নামার মতো অবস্থা ছিল না। বাঁচার জন্য তাজরীনের ৪র্থ তলা থেকেই লাফিয়ে নিচে পড়ি। হয়তো আমার কোনো ভালো কাজের উছিলায় আল্লাহ আমাকে সেদিন রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু আমার শতাধিক সহকর্মী আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আজও তার বিচার পেলাম না আমরা।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, অগ্নিকাণ্ডে যখন জীবন বাঁচাতে শ্রমিকরা চিৎকার করছিলেন তখনো মালিক দেলোয়ার হোসেন কারখানা থেকে বের হওয়ার সব গেটে তালা লাগিয়ে রাখেন। প্রাণে বাঁচতে অনেক শ্রমিক ভবনটির বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন।

তাই এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করে আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুসারে শ্রমিকদের সারাজীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

এনআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন