1. [email protected] : admin : admin
  2. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. [email protected] : admin : jashim sarkar
  5. [email protected] : admin_naim :
  6. [email protected] : admin_pial :

দুই সিটির সাথে ১৬ ইউনিয়নকে যুক্ত করার ছয় বছরেও নাগরিক সুযোগ সুবিধা মিলেনি

শফিকুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৭:০৯ pm

প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে ঢাকা মহানগরের চারপাশের ১৬টি ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে ভাগ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে যুক্ত করে করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে দক্ষিণ সিটির সাথে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং জরিপের কাজ শেষ করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী এই ওয়ার্ডগুলোর হোল্ডিং সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৯টি। এখন এসব হোল্ডিং থেকে কর আদায় করেছে ডিএসসিসি। তবে জরিপে পিছিয়ে রয়েছে উত্তর সিটি। তাদের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে এখনও হোল্ডিং জরিপের কাজ শেষ হয়নি। ফলে নতুন এলাকাগুলোতে কত সংখ্যক হোল্ডিং রয়েছে তা নির্ধারণ হয়নি। এতে সংস্থাটির রাজস্ব আদায় দক্ষিণ সিটির থেকে কম হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৬টি ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে ভাগ করে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির সাথে যুক্ত হওয়া ইউনিয়নের মধ্যে বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে ডিএনসিসির ১৮টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। এই ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে নতুন পাঁচটি অঞ্চলও করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিএসসিসিতে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও এবং নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে পৃথক ১৮টি ওয়ার্ডে (পাঁচটি অংঞ্চল) ভাগ করা হয়। এতে ঢাকার আয়তন বেড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়। এখন ঢাকা শহরের আয়তন ২৭০ বর্গ কিলোমিটার। যা আগে ছিল ১২৯ বর্গ কিলোমিটার।

এদিকে, কেবল আয়তনেই নয় সেই সঙ্গে রাজধানীর জনসংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু এসব এলাকার বাসিন্দারা সব ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। অথচ তাদের কাছ থেকে অন্যান্য এলাকার মতই ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সব ধরনের সুবিধা পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্তৃপক্ষের দাবি রাজধানীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে উভয় দুই সিটিকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। আবার নতুন করে ঢাকার আয়তন বেড়ে যাওয়ায় দুই সিটির ওপর চাপ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নতুন ওয়ার্ডগুলো উন্নয়নে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে দুই সিটি।

ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ার দুই বছর পর হোল্ডিং সংখ্যা নির্ধারণে জরিপ শুরু করা হয। এই জরিপে ৬৮ হাজার ৮৯টি হোল্ডিং পাওয়া যায়। এর মধ্যে অঞ্চল-৬ এর ৭০, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে হোল্ডিং সংখ্যা ১০ হাজার ৭৬০টি, অঞ্চল-৭ এর ৭১, ৭২, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাত হাজার ৬৮টি, অঞ্চল-৮ এর ৬৬, ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৯০টি, অঞ্চল-৯ এর ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ হাজার ৭৭২টি, অঞ্চল-১০ এর ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ হাজার ৩৯৯টি হোল্ডিং রয়েছে। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে এসব ওয়ার্ডের বাণিজ্যিক হোল্ডিং থেকে নির্ধারিত কর আদায় শুরু করে ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ। এর এক বছর পর আবাসিক হোল্ডিং থেকে কর আদায় শুরু হয়। তবে এই ১৮টি ওয়ার্ডে কয়টি আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হোল্ডিং রয়েছে তার পৃথক সংখ্যা দিতে পারেনি সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন ডিএসসিসিতে মোট ১০টি অঞ্চলের অধীনে ৭৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। আগের পাঁচটি অঞ্চলে রয়েছে ৫৭টি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হোল্ডিং সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮৪ হাজার। নতুন হোল্ডিংগুলো মিলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ৫২ হাজারে। তিনি বলেন, এখন আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হোল্ডিং কর বকেয়া নেই। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ওই ৭৫টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা কর আদায় করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে এই খাত থেকে ৩৭৫ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু আবাসিক হোল্ডিংয়ের মালিক হোল্ডিং নির্ধারণ নিয়ে ডিএসসিসিতে আপিল করেছেন। তাদের আপিল নিস্পত্তি হলে বাকি করও আদায় হয়ে যাবে।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্তকর্তা আরিফুল হক বলেন, সরকারের নির্দেশনার পরপরই আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হোল্ডিং নির্ধারণ এবং কর আদায়ে শুরু করে ডিএসসিসি। ডিএসসিসি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময়ে কাজটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের অনেক এলাকা এখনো ফাঁকা (খালি জমি)। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি করা হলে ক্রমান্বয়ে সেগুলোতে হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসিতে আগে ৩৬টি ওয়ার্ড ছিল। পরে এর সাথে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যোগ করা হয়। তবে এখনো এসব ওয়ার্ডে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হোল্ডিং নির্ধারণ করতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে কোন ওয়ার্ডে কতটি হোল্ডিং রয়েছে তা জানা যায়নি।

ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন ওয়ার্ডগুলো যুক্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক এবং ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে আবাসিক হোল্ডিং থেকে কর আদায়ে নির্দেশনা দেয় সরকার। সে অনুযায়ী হোল্ডিং নির্ধারণে স্ব স্ব আঞ্চিলক কার্যালয় থেকে জরিপ শুরু হয়। কিন্তু করোনাসহ বিভিন্ন অজুহাতে এখনো এই জরিপ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। ফলে করও আদায় করতে পারেনি ডিএনসিসি। এতে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, জরিপ কাজ শেষ। নাগরিকদের হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কর আদায়ও শুরু হয়েছে। তবে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে কতো সংখ্যক হোল্ডিং রয়েছে, তার সমন্বিত হিসাব এখনও হাতে পাইনি।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন



আরো




মাসিক আর্কাইভ