শিরোনাম

দিনে আটক অটোরিকশা রাতে বিক্রির অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

উপজেলা প্রতিবেদক, সাভার: সারাদেশে মহাসড়ক গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে থ্রিহুইলার জাতীয় গণপরিবহন গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাভারে মহাসড়ক গুলোতে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে দেখা গেছে অসংখ্য ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। তবে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ প্রতিদিনই এসব পরিবহন আটক করলেও মহাসড়কে থামানো যাচ্ছে না এর দৌরাত্ম্য। কারণ হিসেবে পুলিশকেই দুষছেন এসব পরিবহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

তাদের অভিযোগ, পুলিশ অভিযানের নামে অটোরিকশা আটক করে আবারো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এছাড়া উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের কঠোর নির্দেশনার অজুহাতে মাঝে মধ্যে অটোরিকশা আটকের পর রাতের আঁধারে তা বিক্রিও করে দেয়। গত শনিবার রাতে সাভার হাইওয়ে থানা হেফাজত থেকে একটি অটোরিকশা কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয় একই থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সোর্স শরিফুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক হাসান জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে রিকশা চালান তিনি। গত ছয় মাস আগে আশুলিয়ার হাসেম প্লাজার সমনে থেকে তার অটোরিকশাটি আটক করে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সে সময় তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
এরপর গত শুক্রবার আবার একই জায়গা থেকে তার আটোরিকশাটি আটক করা হয়। তবে পূর্বের ছাড়ানোর অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে তিনি গত দুই দিন হাইওয়ে থানায় চেষ্টা করেও তার অটোরিকশাটি ছাড়াতে পারছিলেন না।

সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে একটি অটোরিকশা ও একটি ভ্যান কয়েক জনকে লোককে বের করে নিয়ে যেতে দেখেন। এসময় তাদের সাথে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি হোন্ডাও (ঢাকা মেট্রো-ল, ২৫-৭৫৮৩) ছিলো। এসময় তার সন্দেহ হলে তাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট এলাকায় তাদের পথরোধ করেন তিনি। এসময় একজন পালিয়ে গেলেও পুলিশের সোর্স শরিফুলসহ আরো দুই জনকে জনতার সহযোগিতায় আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এসময় শাহেব আলী ও মোকলেছ নামে আটক দুই ব্যক্তি উপস্থিত জনতার কাছে থানার (সোর্স) শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যানটি কিনেছেন বলে জানান।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন জানান, স্থানীয়দের খবরে শরিফুল ইসলাম, শাহেব আলী ও মোকলেছ নামে তিনজনকে অটোরিকশাসহ হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাইওয়ে থানায় খোঁজ করলে জানা যায়, উদ্ধার করা ইয়ামাহা এফজেড হোন্ডাটির মালিক হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলামের। ধৃত শরিফুল ইসলাম (সোর্স) গভীর রাতে তার নিবন্ধনকৃত হোন্ডটি ব্যবহার করা কারন জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম বলেন, শরিফুল তার মামাতো ভাই।

অনুন্ধান করে আরও জানা যায়, উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম সাভার হাইওয়ে থানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকে তার মামাতো ভাই শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে তার কাজে সহযোগীতা করে আসছেন। অন্যদিকে এই শরিফুলের মাধ্যমেই প্রায় প্রতি রাতে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে অটো রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক বিক্রয় করা হয়।

অভিযানে আটক করা যানবাহন রাতের আধারে থানা থেকে বিক্রি করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার বলেন, ভাই সংবাদটি প্রকাশ করিয়েন না। আপনি একবার থানায় আসেন, চায়ের দাওয়াত রইলো। যা ঘটেছে আগামীতে আর এমন কোন ঘটনা ঘটবে না।

এবিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর (রিজিয়ন) এর পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ খাঁনা বলেন, থানা থেকে যানবাহন বিক্রি করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমান পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আইআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন