1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
ডলার ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ভয়ংকর খুনিচক্র গ্রেফতার - |ভিন্নবার্তা

ডলার ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ভয়ংকর খুনিচক্র গ্রেফতার

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০, ০১:১৬ pm

দি ফ্যাশন বায়িং হাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সুলতান হোসেন (৪৬)। তার কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার আছে ভেবে মতিঝিল থেকে তাকে অনুসরণ করের্ র‌্যাব পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতচক্র। গত ১৪ জুলাই তারা প্রথমে বাসে অনুসরণ করে সুলতানকে। মিরপুরের পল্লবীতে নামার পরই তাকে ওই চক্রের কয়েকজনর্ র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে ওঠায়। চেঁচামেচি করায় গামছা দিয়ে সুলতানের গলা পেঁচিয়ে ধরা হয় এবং পেছন থেকে তার হাত চেপে ধরা হয়। এ অবস্থায় চলন্ত গাড়িতেই শ্বাসরোধে মারা যান সুলতান। তার মৃতু্যর পর ছিনতাইকারী পুরো টিমসহ গাড়িটি গাবতলী-হেমায়েতপুর-সাভার হয়ে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ড্রাইভার ছাড়া পুরো টিম নেমে পালিয়ে যায়। ড্রাইভার সুমনও সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের অদূরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে সুলতানের লাশটি ফেলে পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গুলশান গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ওই হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হুন্ডির ব্যবসায়ী, বেশি ডলার ভাঙায় কিংবা যারা মতিঝিলের ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করে, এমন লোকদের টার্গেট করে। পরে তাদের অনুসরণ করে সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে র‌্যাব পরিচয়ে গাড়িতে উঠিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থসহ যাবতীয় মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে অনেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাদের মেরে ফেলা হয়। তেজগাঁওয়ের বায়িং হাউজ কর্মকর্তা সুলতান তেমনি হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে গুলশান গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, গত ১৪ জুলাই বায়িং হাউজ কর্মকর্তা সুলতান অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় তার ভাই আবুল হোসেন গত ১৫ জুলাই তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একদিন পর ১৬ জুলাই মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের অদূরে মহাসড়কের ঢালে ঝোপঝাড়ের ভেতর একটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। পরে সুলতানের আত্মীয়-স্বজন সেখানে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। ওই ঘটনায় আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৮ জুলাই তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থানা গোয়েন্দা পুলিশও ছায়া তদন্ত শুরু করে। মশিউর রহমান বলেন, প্রথমে চক্রটির সদস্য এবং সুলতানের অন্যতম হত্যাকারী ফরহাদ হোসেনকে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সরকার গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে ১৫ আগস্ট প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সসহ ড্রাইভার জালাল উদ্দিন ওরফে সুমনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের মূল হোতা কাজী মো. আকবর আলী (৪৫), সাহারুল ইসলাম ওরফে সাগর (২১), আমিনুল ইসলাম ওরফে সবুজকে (৫০) রাজধানীর পুরানা পল্টন লাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত র‌্যাবের দুটি জ্যাকেট, একটি হাতকড়া, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন সংযুক্ত ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ডামি পিস্তল ও একটি পিস্তলের কভার উদ্ধার করা হয়। ঘটনার বিবরণে ডিসি মশিউর জানান, গত ১৪ জুলাই সাগর ও সবুজ মতিঝিল মানি এক্সচেঞ্জ অফিস থেকে সুলতানকে অনুসরণ করে। পল্টন মোড় থেকে সুলতানের সাথেই বিআরটিসি বাসে ওঠে সাগর ও সবুজ। তারা চক্রের অপর সদস্য আকবরকে ফোন করে লোকেশন জানায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের কাজের জন্য ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্স অনুসরণ করে বাসটিকে। ফার্মগেটে নেমে সুলতান মিরপুরগামী শিখর পরিবহণের বাসে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে সাগর ও সবুজ তাকে অনুসরণ করে সেটিতে ওঠে। তারা আকবরকে জানায়, সুলতানের কাছে অনেক বিদেশি ডলার আছে, কাজটি করতে হবে। তখন আকবর অ্যাম্বুলেন্সযোগে পুনরায় বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে সুলতান নামার পরই আকবর, মনির, ফরহাদ নিজেদের র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সুলতানকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠায়। আকবরের হাতে ওয়ারলেস সেট, মনিরের র‌্যাবের পোশাক, ফরহাদের গায়ে র‌্যাবের পোশাক এবং হাতে একটি হাতকড়া ছিল। কিন্তু তারা র‌্যাবের প্রকৃত সদস্য নয় বুঝতে পেরে চেঁচামেচি শুরু করেন সুলতান। মূল হোতা আকবর তখন সুলতানের হাতে থাকা ব্যাগটি তল্লাশি করতে থাকে। কোনো ডলার না পেয়ে তা কোথায় জিজ্ঞাসা করতে থাকে। ভয়ে সুলতান পুনরায় চিৎকার-চেঁচামেচি করলে অ্যাম্বুলেন্সের সামনের সিটে বসা মনির চালক সুমনের গামছা নিয়ে সুলতানের গলা পেঁচিয়ে ধরে। পেছনের সিটে বসা আকবর তখন তার হাত চেপে ধরে এবং ফরহাদ চেপে ধরে পা। একপর্যায়ে চলন্ত পথেই মারা যান সুলতান। তিনি মারা যাওয়ায় ছিনতাইকারী পুরো টিমসহ গাড়িটি গাবতলী-হেমায়েতপুর-সাভার হয়ে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে সবাই নেমে পালিয়ে যায়। ড্রাইভার সুমন একা লাশটি নিয়ে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের অদূরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে লাশটি ফেলে পালিয়ে যায়। ডিসি মশিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পল্টন থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD