
সারাদেশে যখন চলছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসন যখন সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঠিক তখনি বেরিয়ে এলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাকরাইল ঢাকায় কর্মরত একজন কর্মচারি (হিসাব সহকারী) মোফাজ্জল হোসেন এর ঘুষ, দুর্নীতি ও বিলাসী জীবন জাপনের চানঞ্চল্যকর তথ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি নিজেকে মানবিক কর্মচারি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন সাইটে জাতীয় শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে ছবি দিয়ে পোষ্টার প্রচার করেন।নিজেকে তিনি জনস্বাস্থ্য কর্মচারি ইউনিয়ন ও সমবায় সমিতির নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।কিন্তু আর দশ জন কর্মচারির জীবনজাপনের সাথে মোফাজ্জল হোসেন এর জীবনজাপনের আকাশ পাতাল ব্যবধান। তার বিলাসী জীবনজাপনের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে তিনটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন যার একেক টি মোবাইল ফোনের বাজার মূল্য ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পন্ঞাশ হাজার) থেকে ১,৬০,০০০/-(এক লক্ষ ষাট হাজা) টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, গত রমজান মাসব্যাপী তিনি ঢাকা শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় খাবার ও ইফতার বিতরন করেন যা প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০/(চল্লিশ হাজারর) থেকে ৫০,০০০/-(পন্ঞাশ হাজার) টাকা যা মাসে প্রায় ১৫,০০০০০/-(পনের লক্ষ) টাকার খাবার বিতরন করেন এবং তার খাবার বিতরনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন সাইটে ভাইরাল হয়।এ ছাড়াও বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্দোগে ত্রান বিতরনে ব্যস্ত সময় পার করছেন যার চিত্র স্থানীয় পত্রিকা ও টিভিতে প্রচার হয়েছে।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাকরাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে জানা যায় তিনি বর্তমানে রংপুর বিভাগে ব্যক্তিগত উদ্দোগে ত্রান বিতরন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মচারি বলেন, মোফাজ্জল হোসেন ক্ষমতা ধর ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারো নাই। কারণ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুললে তিনি নানা ভাবে হয়রানির স্বীকার হন এমন কি অনেক বড় কর্মকর্তা-কর্মচারিও তার হয়রানি থেকে রেহায় পাচ্ছে না।একজন কর্মচারি বলেন, একবার এক অফিসার (ইঞ্জিনিয়ার) মোফাজ্জল এর ঘুষ দূর্নিতীর বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন মোফাজ্জল ওই অফিসারের কক্ষে গোপন ক্যামেরা সেট করে অফিসারকে ব্লাকমেল করে এবং উপরমহল কে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে। সেই থেকে কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। অন্য একজন কর্মচারি বলেন, মোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন ঠিকাদার কে কাজ পাইয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেন ঘুষ ছাড়া তিনি কোন ফাইল অফিসারের রুমে পাঠান না।বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারদের সাথে রয়েছে তার গোপন আতাত।এছাড়া তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নামে কল্যান তহবিল গঠন করে সারাদেশ থেকে টাকা উত্তোলন করেন এবং সহায়তার নাম করে সে টাকা আত্মসাত করেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
অন্য একজন কর্মচারি বলেন, মোফাজ্জল হোসেন প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ে তে চাকরি করতেন তারপর এখানে চাকরি নেন প্রথম অবস্থায় সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু এখানে যোগদান করার ২ বছরের মধ্যে তার চালচলনের পরিবর্তন হতে থাকে। দামী মোবাইল, ব্রান্ডেট পোশাক সহ বিলসী জীবনজাপন শুরু করেন এবং সম্প্রতি শুনেছি তিনি ঢাকার সাভারে ৩ কাঠা জমির বায়না পত্তর সম্পন্ন করেছেন। আমরা যেখানে ছেলেমেয়ে নিয়ে চলতে পারি না সেখানে মোফাজ্জল হোসেন প্রতি মাসে ব্যয় করেন লাখ লাখ টাকা।তার এই বিলাসী জীবনজাপনে আমরা শুধু হতবাক না বিস্মিত।
এ বিষয়ে কথা হয় দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে। আলাপচারিতার একপর্যায় তিনি বলেন মোফাজ্জল হোসেন এর কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সম্প্রতি জানতে পেরেছি এবং এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। এ বিষয়ে মোফাজ্জল হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।