1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  6. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে গণমিছিলের কর্মসূচি আসতে পারে, গঠিত হচ্ছে লিয়াজোঁ কমিটি

গোলাপবাগ মাঠে জনস্রোত, ১০ দফা ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হচ্ছে (ভিডিও)

নীরা নুসরাত
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০২ pm

সপ্তাহ খানেকের নাটকীয়তা, টানোপোড়েন ও নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে গণসমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। অনুমতি পাওয়ার পরপরই মিছিল স্লোগানে মাঠে আসতে শুরু করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাতে এই মাঠেই অবস্থান করবেন। মিছিল স্লোগানে মাঠে এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। এদিকে শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ১০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় সায়েদাবাদের কাছে গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

শুক্রবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন ও কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেন। তাঁরা ওই মাঠে মঞ্চ নির্মাণ এবং মাইক বসানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পর সম্মতি দেয় পুলিশ। হারুন সাংবাদিকদের বলেন, ২৬ শর্তে বিএনপিকে অনুমিত দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশস্থল নিয়ে পুলিশ ও বিএনপি এমন সময় সমঝোতায় এল যখন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দলের এক কর্মীর প্রাণ হারিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ সাড়ে ৪ শ’র বেশি নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তবে রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ আয়োজনে বিএনপির কাছ থেকে তারা এখনো কোনও আবেদন পায়নি।

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দলীয় কর্মসূচিতে নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করছে বিএনপি। আজ ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শেষ হবে।

এদিকে সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি নেতা-কর্মীরা গোলাপবাগ মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করেন। সন্ধ্যা নাগাদ পুরো মাঠ ভরে যায়। রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকে মাঠ পরিদর্শন করতে যান তখন মাঠ পেরিয়ে আশপাশের সড়েক নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন।

ঢাকার এ সমাবেশ ঘিরে গত কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে দেশের রাজনীতিতে। সহিংসতার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতাও জারি করেছে। সভা-সমাবেশ বাধা না দিতে পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ও জাতিসংঘ বিবৃতি দিয়েছে।

গণসমাবেশ করতে নয়াপল্টনের জন্য অনুমতি চেয়ে গত ১৩ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিল বিএনপি। দলটি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চাইলেও ডিএমপি বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয়। পরে নয়াপল্টন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে বিকল্প ভেন্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে দলের দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতা গ্রেপ্তার প্রেক্ষিতে গতকাল সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, সমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস গ্রেপ্তার হওয়ায় তার স্থলে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দায়িত্ব পালন করবেন। স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি থাকবেন। তবে সমাবেশের আগে তাঁদের কেউ গ্রেপ্তার হলে ক্রমানুসারে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সিনিয়র সদস্য প্রধান অতিথি হবেন।

সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ায় সিনিয়র একজন নেতাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এর আগে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এমরান সালেহ প্রিন্সকে দপ্তরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেবে
বিকালে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আগে মিত্র কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। সেখানে তাঁদের জানানো হয় সমাবেশে বিএনপি ১০ দফার ভিত্তিতে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। সে অনুযায়ী মিত্র দলগুলোও কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানায় বিএনপি। তবে অবস্থার ভিত্তিতে কর্মসূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

সমাবেশে বিএনপি অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। বিএনপি মিত্র দলগুলোও যার যার অবস্থান থেকে রাজধানীতে সমাবেশ পালনের মাধ্যমে একই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরা আগামীদিনে এই সরকারকে বিদায়ের জন্য ১০ দফা দাবি ঘোষণা করব। এর ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

স্থায়ী কমিটির সভায় যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সব দল থেকে কয়েকজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে।

যা থাকছে ১০ দফা রূপরেখায়
১. সংসদ বিলুপ্ত করে সরকারকে পদত্যাগে করতে হবে ২. ১৯৯৬ সালে সংবিধানের সংযোগিত ধারা ৫৮-খ, গ ও ঘ এর ভিত্তিতে দল নিরপেক্ষ অন্তবর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে ৩. ওই সরকার সবার গ্রহণযোগ্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এবং পরে ওই নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পর আরপিও সংশোধন, ইভিএমন পদ্ধতি বাতিল ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করবে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করতে হবে ৪. খালেদা জিয়াসহ সব বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও আলেমদের সাজা বাতিল, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। সভা ও মত প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি না করা, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে নতুন মামলা ও বিরোধীদলীয় দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না ৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ২৯৭৪সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সব কালা-কানুন বাতিল করতে হবে ৬. বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার ও পানিসহ জনসেবা খাতসমূতে মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে ৭. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে, বাজার সিন্ডিকেট মুক্ত করতেহবে। মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্যামজুরি নিশ্চিত, শিশুশ্রম বন্ধ করা ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে ৮. গত ১৫ বছর বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত ও শেয়ারবাজারসহ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্নীতি চিহ্নিত করার লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করতে হবে ৯. গত ১৫ বছরে গুমের শিকার সব নাগরিকদের উদ্ধার করতে হবে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার আইনানুগ বিচারের ব্যবস্থা করে শাস্তি নিশ্চিত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, উপসানালয় ভাংচুর ও সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ১০. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে সঙ্গে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করার লক্ষ্যে সরকারি হস্তক্ষেপ পরিহার করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে আমাদের সব নেতা-কর্মী সমর্থক আহবান জানাতে চাই, আগামীকাল শান্তিপূর্ণভাবে গোলাপবাগের মাঠে সমাবেশে উপস্থিত হবেন। ঢাকাবাসীর প্রতি আমাদের আহবান এই যে, স্বৈরাচারি সরকার গায়ের জোরের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে অপচেষ্টা করছে তার প্রতিবাদ জানাতে আপনারা সমাবেশে দলে দলে যোগ দিন।’

দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা, গুলিবর্ষণ, কার্যালয়ে অভিযানসহ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন: গণতন্ত্র মঞ্চ
১০ ডিসেম্বরে বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন তারা। শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই আহবান জানান। তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

ভিন্নবার্তা ডটকম/ আরজে/এন



আরো




মাসিক আর্কাইভ