শিরোনাম

খালেদা ইনভ্যালিড তারেককে দিয়ে হবে না: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, অন্যদিকে অসুস্থ। ফলে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক থাকায় তাকে দিয়ে বিএনপির হাল ধরা সম্ভব নয়। গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সবদিক বিবেচনায় বিএনপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার নাতনি তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানকে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবর্তমানে কে যোগ্য নেতৃত্বে বিএনপির হাল ধরতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর এখনো মোটামুটি ভালো আছে। তবে রাজনীতিতে তিনি আর আগের মতো ফিরতে পারবেন বলে মনে হয় না। বলা যায়, রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এখন ইনভ্যালিড। নাতনি জায়মাকে যদি তিনি প্রমোট করেন তার পাশে থেকে উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ দিয়ে দলে পোক্ত অবস্থান তৈরি করে দিতে পারেন তাহলে সেই পারবে বিএনপির যোগ্য নেতৃত্বশীল হয়ে উঠতে। যেটা তারেক রহমানকে দিয়ে হবে না। কেবল জায়মা রহমানই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপির উচিত জায়মার দিকে নজর দেয়া। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দ্বিমত না করে জায়মার পাশে থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। এখনো যদি জায়মাকে দেশে এনে ‘হার্ড এন্ড ফাস্ট’ নামে তাহলেই দলটিতে নতুন গতি আসবে।

তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে যে অবস্থায় পড়ে আছে সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রথমত, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিএনপির কাউন্সিল করে প্রতিটি কমিটিতে তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব বসানো উচিত। দ্বিতীয়ত, জায়মাকে দলের রাজনীতিতে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করানো। তাহলেই শেখ হাসিনা বিএনপিকে সিরিয়াসভাবে নেবে। দেশবাসীর মধ্যে দলটিকে নিয়ে নতুন আশার জন্ম নেবে।

বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশে থেকে তারেকের পক্ষে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব না। তাছাড়া মুখে না বললেও বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই তাকে পছন্দ করেন না। তার কারণেই দলটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মির্জা ফখরুলকে মেনে নিতে পারেন না বলেই মাঝখানে রিজভী আহমেদকে ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। অথচ তার উচিত ছিল মির্জা ফখরুলকে মেনে নেয়া।

বহুদিনের জোট সঙ্গী স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রেখে বিএনপি কতটা লাভবান হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরো জাতির সঙ্গে বেইমানির অপরাধে জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তা না হলে কোনোদিন তারা মাথা উঁচু করে রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতে পারবে না। বিএনপিও তাদের জোটে রেখে যে লোকসানের মুখে রয়েছে সেখান থেকে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনেকেই মনে করেন, বিএনপির নির্বাচনী জোট ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এই জোটের কোনো অস্তিত্বও নেই। এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠন বিএনপির জন্য কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং এই জোট গঠন না করলে বিএনপির নির্বাচন থেকে দূরে থাকত। রাজনীতিতে আরো পিছনে পড়ে থাকত। বিএনপি বরাবরই নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ওপরে চাপাতে চায়। এসব না করে তাদের উচিত সক্রিয় রাজনীতির পথে হেঁটে দল গুছিয়ে মাঠে নেমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অনেকেই মানতে না চাইলেও শেখ হাসিনা একা হয়ে পড়েছেন। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলি, সবাইকে ডাকেন না কেন। আপনিতো ওই চেয়ারে আছেনই। আমাদের না হয় এক কাপ চা খাওয়াবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই দেশটাকে পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে ভালো থাকতে হবে। একা কখনো ভালো থাকা যায় না। আমাদের স্বার্থপরতা পরিহার করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ সাহেবের দল আমি কখনো করিনি। ওনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল ঝগড়ার, আবার ভালোবাসার। উনি দেশটাকে নিয়ে যেভাবে স্বপ্ন দেখতেন এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সেটা পারলে দেশের মানুষ আর অশান্তিতে থাকত না।

ভিন্নবার্তা/এসআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন