শিরোনাম

সুরক্ষা সামগ্রী না দেয়ার অভিযোগ
কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবহার করছে না পরিচ্ছন্নকর্মীরা

শফিকুল ইসলাম

রাজধানীতে বসবাসকারীরা করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় তেমন কোন সচেতন হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আক্রান্ত হয়ে মরা যাচ্ছেন। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা এ বিষয়ে একেবারেই অসচেতন। তারা বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহারিত বর্জ্য অপসারন করছে ঠিক আগের নিয়মেই। তারা করোনা থেকে বাচতে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবহার করছে না।সিটি কর্পোরেশন থেকেও কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা সবচেয়ে বেশি করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছে সাড়ে আট হাজার। এসব পরিচ্ছন্নকর্মীরা বর্জ্য অপসারনে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবহার করছে না। তারা আগের মতই যেমনে ইচ্ছে তেমনেই বর্জ্য অপসারন করছে। অথচ বাসা বাড়িরর বর্জ্যরে সাথে রয়েছে ব্যবহারিত মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা আছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপযুক্ত সরঞ্জাম ও নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহার করতে হবে। কাজের পর সেগুলো জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আবর্জনার মধ্যে কোনো মাস্ক থাকলে সেটা হাত দিয়ে ধরা যাবে না। তবে করোনার প্রথম দিকে, করপোরেশন নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী দিয়েছিল, যদিও সেগুলোর অধিকাংশই ছিল একবার ব্যবহারের উপযোগী। এদিকে ঢাকার দুই সিটিতে বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করেন সাড়ে আট হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তারা কাজ করেন সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে। কিন্তু করপোরেশন তাদের সুরক্ষাসামগ্রী বা জীবাণুনাশক দেয়নি। তারা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন, সর্বত্র ঝুঁকি ছড়াচ্ছেনও। সম্প্রতি বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মিরপুরে সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্র পড়ে আছে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহারিত মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা ধরনের বর্জ্য। নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দুই সিটির পরিচ্ছন্নকর্মীদের। ফলে এসব বর্জ্য তাদেরই অপসারন করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে রাস্তাঘাট থেকে ময়লা আর্বজনা পরিচ্ছন্ন করছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বর্জ্য অপসারন করতে তারা কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবহার করছে না।

একাধিক পরিচ্ছন্নকর্মী অভিযোগ করেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রথম দিকে সিটি কর্পোরেশন থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিলেও এখন আর দেয়া হচ্ছে না। ফলে আমরা আগেরমতই ঝুঁকি নিয়ে সব ধরনের বর্জ্য অপসারন করছি।

তারা জানান, বাসাবাড়ির ময়লার সাথে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেলায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। এসব ব্যবহারের পর এগুলো গৃহস্থালীর বর্জ্যরে সাথে ফেলানোয় বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে অন্যান্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি তা পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছের। ফলে এগুলো সঠিক পদ্ধতিতে ধ্বংস করা না গেলে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।

পাশাপাশি এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এসব বর্জ্যর বিষয়ে যেমর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তেমনি পরিচ্ছন্নকর্মীদের সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করার উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রথম দিসে সব পরিচ্ছন্নকর্মীদের সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুুন