শিরোনাম

কিশোরগঞ্জে সেতুর অভাবে লক্ষাধিক মানুষের জনদুর্ভোগ

জয়নাল আবেদীন হিরো, নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাহাগিলী ইউপি’র চাড়াল কাটা নদীর শামসুল চেয়ারম্যানের ঘাটে স্মরণাতীত কাল থেকে একটি সেতুর অভাবে ৮০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক লোক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের সহায়তায়. একটি বাসশর সাঁকো নির্মাণ করা হলেও গত বন্যায় তা বিলীন হয়ে যায়। ওই নদীতে সেতু না থাকায় যানবাহন বিহীন সদ্য নির্মিত জোড়াতালি বাঁশের সাঁকোদিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নদীর এপার, ওপারের অগণিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক,কৃষক, ব্যবসায়ী, পথচারী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা ও শিশু। অনেক সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাসহ সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে পথেচারীদের খেতে হয় নাকানি-চুবানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর অভাবে বিশেষ করে বাহাগিলী ইউপিটির ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে দক্ষিণ দুরাকুটির ৬ওয়ার্ডের ৫০ গ্রামের ৪৫হাজার লোকজনের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের ৪ কিঃমিঃ দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি সব গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানসমুহ ইউপিটির এক প্রান্তে হওয়ায় দক্ষিণ দরাকুটির লোকজনকে তারাগঞ্জ, কালুরঘাট সড়ক হয়ে ১৫কিঃমিঃ দূরত্ব অতিক্রম করে ইউপি পরিষদ, ভ্থমি অফিস, সেটেলমেন্ট, উপজেলা পারিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাট বাজার, থানায় আসতে হয়। অথচ সাঁকো থেকে উত্তর দুরাকটি গ্রামের ১কিঃমিঃ গেলে পাকা সড়ক। ওই সাঁক থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ৪ কিঃমিঃ পথ। দীর্ঘদিন থেকে একটি সেতুর অভাবে ৪ কিঃমি’র স্থলে ১৫ কিঃমি’র পথ ঘুরে আপামর জনগোষ্ঠীর নাগরিক জীবনের সকল কর্মকান্ডকে হাঁপিয়ে তুলেছেন। ভ্যান চালক আনিছুল বলেন, সাঁকোর উপর দিয়ে গেলে উপজেলা সদরের দূরত্ব ৪কিঃমিঃ।আর বিকল্প পথে ১৫ কিঃমিঃ ঘুরে কৃষিপণ্য নিয়ে কিশোরগঞ্জের হাটে যেতে হয়।

উঃ দুরাকুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুলাল জানান,অনেক সময় স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের ৪কিঃমি’র স্থলে অতিরিক্ত ১৫ কিঃমিঃ ঘুরে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হিমশিম খেতে হয়।
উঃ দুরাকুটি গ্রামের প্রভাষক সুজাউদ্দৌলা লিপটন বলেন, উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্রে দক্ষিণ দুরাকুটি গ্রামটি অনেক অনুন্নত ও অবহেলিত শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণেই শত বছর বয়সী দক্ষিণ দুরাকুটির গ্রামটি সেতুর অভাবে মৃত্যুপ্রায়।শ্লোগনের বাস্তব রুপদিতে এলাকাবাসি একটি সেতুর জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

দক্ষিণ দুরাকুটি গ্রামের আজিজুল, জয়নাল জানান, চৌদ্দ পুরুষ থেকে গরুর লেজ ধরে নদী পারাপারই ছিল একমাত্র ভরসা। বাপ-দাদার আমল থেকে নদীর উপর সেতু হয়, হয় আর হয় না। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আওড়িয়ে ভোট নিয়ে যায়, পরে আর দেখা মেলে না।
এ ব্যাপারে বাহাগিলী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ্ দুলু বলেন , গত ১৫ বছর ধরে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে আবেদন করার পরও বর্তমান সংসদ সদস্যর কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার মজিদুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মানের যাবতীয় কাগজ পত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে
ওই ঘাটে সেতু নির্মান করা হবে।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুুন