1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
করোনায়ও চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন |ভিন্নবার্তা

করোনায়ও চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : শনিবার, ৮ অগাস্ট, ২০২০, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

করোনার ভয়াল থাবায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এমন বৈরী পরিস্থিতিতেও চলছে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন, মঠ-মন্দিরে হামলা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, অপ্রিয় হলেও সত্য, সরকারের কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও করোনা মহামারীর মধ্যেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৭০/৭৫টি হামলা, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর লুটপাট, জোরপূর্বক অপহরণ ও ধর্মান্তরকরণ, ধর্ষণ, দেশত্যাগের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।

তারা আরো বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূয়া গুজব ছড়িয়ে একাধিকবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আক্রমনের শিকার হতে হয়েছে। কখনো কখনো দলবদ্ধভাবে হামলার শিকার হয়েছে। তাদের সহায় সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আস্থার-সংকট সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার বোকাবুনিয়া ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি গ্রামের নীপেন্দ্র চন্দ্র দাসের হরিমন্দির ও বিগ্রহ ভাঙচুর হয়, ৪ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার মজলিসপুর গ্রামে শিবগাছ (বাবাগাছ) উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়। ৩০ মার্চ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে এলাকার সন্ত্রাসী সেরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়। ৭ এপ্রিল মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাজার রাধানগর গ্রামের সুকান্ত চক্রবর্তীর পৈত্রিক ভিটায় নির্মিত স্থাপনা বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান গং গুড়িয়ে দিয়েছে। ১৩ এপ্রিল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটায় মুদি ব্যবসায়ী সুবল চক্রবর্তীকে প্রকাশ্যে মারধর ও ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে সন্ত্রাসী মোস্তাক। ১৫ এপ্রিল নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার ধনেশ্বর রায়ের কন্যা প্রতিমা রানী রায়কে মামুন ইসলাম গং জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্মান্তরিত করে। ১৬ এপ্রিল রাজশাহীর মোহনপুর থানার ঘাসী গ্রামে নিমাই সরকারের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী অষ্টমী সরকার স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরিয়ত আলীর সহায়তায় পাশের গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে গোলাম মোস্তফা ও তার সহযোগিদের উত্যক্তে অতিষ্ট হয়ে আত্মহত্যা করে। ২৪ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার চিলাই ইউনিয়নের গুলেরডাঙ্গা গ্রামের অনিল বালার পরিবারের উপর হামলা চালায় প্রভাবশালী আবদুস সালামের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী। এতে অন্তঃসত্তা গৃহবধুসহ পরিবারের ৭ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়। ২৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার শাঁখারীপাড়ার শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির ভাঙ্গচুর হয়। ২৮ এপ্রিল দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ২নং ঈশানিয়া ইউনিয়নের মহেশাইল বাজারে অবস্থিত দুর্গামন্দির ও বনকালী কালী মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা প্রতিমা ভাঙচুর করে। একই তারিখে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাস পাড়ার মহাশ্মশাননের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখল করে নেয় ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: জাহিদুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। ৫ মে চট্ট্রগ্রামের বাঁশখালির গ-ামাড়া ৯ নং ওয়ার্ডের কালীদাসের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, এতে তাদের পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয় এবং মুসলিম হয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।

একই তারিখে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের কুমুদগঞ্জ বাজারের কালী প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। ১২ মে প্রতিবেশী মো: মধু মিয়ার অত্যাচারে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীনাথপুর গ্রামের ব্রজেন্দ্র শঙ্করের কিশোরী মেয়ে সঞ্চিতা শঙ্কর আত্যহত্যা করে। মধু মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ সঞ্চিতা শঙ্করকে নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিল এবং আত্মহত্যার ঘটনার আগের দিন রাতে সঞ্চিতাদের ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তার শীলতাহানীর চেষ্টা করে।  ১৫ মে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার শ্রীরামচন্দ্র দাস নামে এক যুবক কর্তৃক ফেসবুকে মহনবী (সঃ)কে কটুক্তি করার কথিত অভিযোগে শ্রীরামচন্দ্র দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় মুসল্লিরা হিন্দুদের বাড়িঘর ও দোকানে ব্যাপক হামলা চালায়।

২১ মে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার সুতারপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর গ্রামের নমপাড়ার সার্বজনীন কালীমন্দিরে স্থানীয় রাকিব ও সজীবের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙ্গচুর করে। ২৩ মে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌর এলাকার ধুলজুরি গ্রামের বিধবা দিপালী রানীর বাড়িতে প্রভাবশালী ফেরদৌস মিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং দিপালী রাণী ও তার কলেজ পড়–য়া মেয়ে সেতু রাণীকে মারধর করে ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ২ জুন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার এএস আই মো: শামীম উদ্দীন স্থানীয় দোকানদার নিখিল তালুকদারকে কোন কারণ ছাড়াই পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তিতে আহত নিখিল তালুকদার ৪ জুন সকালে মৃত্যুবরণ করেন। ১২ জুন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার তারাপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শ্রীমতি প্রতিমা রানীকে স্থানীয় লম্পট মো: দুলাল মিয়া গোয়ালঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ২০ জুন ২০২০ একদিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা লুট, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙ্গচুরের মতো তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ভোলা জেলা দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী প্রবীর মাঝি তার ব্যবসাস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম মেম্বারের পুত্র সন্ত্রাসী শাহাবুদ্দিন দল-বল নিয়ে গাছ ফেলে মটর সাইকেল থামিয়ে ৫ লক্ষ টাকাসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা তার ছোট ভাইকেও ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত করে। একই তারিখ রাতে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত শ্রীশ্রী কালি মন্দিরে রাখা সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ভিতরে থাকা প্রণামীর অর্থ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। ওই দিনই দুপুরে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানি ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে রানা একই গ্রামের হরিমন্দিরের রাস উৎসবের ৫ টি প্রতিমা ভাঙচুর করে।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD