শিরোনাম

করোনাভাইরাসের দোহাই, দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া মরণঘাতি করোনাভাইরাস ইস্যুকে পুঁজি করে সাভারের বিভিন্ন হাট-বাজার ও ফার্মেসিতে দ্বিগুণ দামে বিক্রির অভিযোগ মিলেছে। এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য সচেতন নাগরিকরা ইতিমধ্যে মাস্ক ব্যবহারের উপর মনযোগী হচ্ছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাজারে মাস্ক এর কৃত্রিম সংকট তৈরী করে অতিরিক্ত দামে তা বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ড ও থানা রোডের বিভিন্ন ফার্মেসীগুলোতে ঘুরে মাস্ক এর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সব ধরনের ঔষধ ন্যায্য মূল্যে বিক্রী করার সাভার থানা রোডের মামুন ফার্মেসী, বণিক মেডিসিন কর্নার, লাজ ফার্মাসহ বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও মাস্ক পাওয়া যায়নি।

এখানকার নীলু ফার্মেসী মাস্ক চেয়ে পাওয়া গেলেও প্রতিটি মাস্ক এর মূল্য নেয়া হচ্ছে দশ টাকা এবং ৫০টি এক বস্ক মাস্ক এর দাম চাওয়া হয়েছে চারশ পঞ্চাশ টাকা। সাধারনত এসব মাস্ক ৫০টির বক্স ৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ খুচরা দোকানে প্রতিটি মাস্ক ৫ টাকায় বিক্রী করা হতো।

অতিরিক্ত দাম নেয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানের কর্মচারী মোজাম্মেল হক বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে চীন থেকে মাস্ক আমদানী করা যাচ্ছেনা। এছাড়া যাদের কাছে যে পরিমান মাস্ক রয়েছে তারা সেসব বিক্রী না করে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করেছে। যে কারণে মানুষের চাহিদার উপর ভিত্তি করে আমরা অতিরিক্ত দামে মাস্ক ক্রয় করে বেশী দামে বিক্রি করছি। এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিটি মাস্ক এর দাম হতে পারে পঞ্চাশ থেকে একশ টাকা।

সাভারের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হাফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, করোনা ভাইরাস দেশে আসার আগেই ফার্মেসীগুলোতে মাস্ক দুর্নীতি শুরু করেছে। প্রতিটি মাস্ক ৫ টাকার পরিবর্তে দশ টাকায় বিক্রী হচ্ছে, যার ৫০ পিচের বক্স বিক্রি হতো একশ টাকা। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডের আল মুস্তাকীম ও সিকদার ফর্মেসীতে মাস্ক ক্রয় করতে গেলে প্রতি পিচ মাস্ক ১০ টাকা চায় দোকানী।

দাম বেশীর কারণ জিজ্ঞাসা করতেই তারা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। এসময় আল মুস্তাকীম ফার্মেসীতে বেশী দামেই এক বক্স মাস্ক ক্রয় করতে চাইলেও তারা সর্বোচ্চ ৫ পিচ নিতে পারবেন বলে জানান। অবশেষে দুইটি ফার্মেসী থেকে আমি ১০ পিচ মাস্ক ১০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করি।

তিনি আরও বলেন, ধুলা-বালির জন্য আমি সাধারণত সব সময়ই মাস্ক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু করোনা ভাইরাস দেশে আসবে মনে করেই অতিরিক্ত লাভের আসায় ফার্মেসীগুলোতে মাস্ক মজুত করছে। সাধারন নাগরীকরা ভুক্তভোগী হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অনতি বিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, চীনে ‘২০১৯-এনসিওভি করোনা’ ভাইরাসে বৃহস্পতিবার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬৯২ জন। করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এটি সংস্পর্শে আসা লোকজনের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই।

আইআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন