শিরোনাম

এএসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা

বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) ও রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ মাদকদব্য উদ্ধারকারী কর্মকর্তার পুরস্কারপ্রাপ্ত এসআই আলমগীর হোসেনের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত ৩৯ লক্ষাধিক টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুদীপ্ত কুমার চৌধুরী রোববার নিজ কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে এ মামলা করেন। সোমবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এজাহার ও অন্যান্য সূত্র জানায়, এসআই আলমগীর হোসেন (৪৩) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শৌলীসবলা গ্রামের মৃত মবজেল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে বগুড়ার সোনাতলা থানায় কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯৭ সালের ২৪ এপ্রিল কনস্টেবল পদে (তৎকালীন দাঙ্গা দমন বিভাগ) যোগদান করেন। এসআই হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর গত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বগুড়ার শাজাহানপুর থানা এবং ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বগুড়া ডিবিতে কর্মরত ছিলেন।

এসআই আলমগীর জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শেষে সম্পদ বিবরণী জারি করা হয়। তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর এবং তিন লাখ ৭৬ হাজার ৭৮ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৭২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনের ঘোষণা দেন।

অনুসন্ধান ও যাচাইকালে তার নামে আরো সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এসআই আলমগীর হোসেনের ৪৫ লাখ দুই হাজার ৭০১ টাকার গ্রহণযোগ্য আয় এবং ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২২ বছরে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় পাওয়া যায়। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ পাওয়া যায় ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৮ টাকা।

এক্ষেত্রে আলমগীর হোসেন তার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি এ সম্পদ ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারার শাস্তিযোগ অপরাধ করেছেন। দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে।

সুদীপ্ত কুমার চৌধুরী আরো জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বগুড়ার সোনাতলা থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, এসআই আলমগীর হোসেন পিপিএম পদকপ্রাপ্ত। তিনি গত তিন মাস ধরে এ থানায় কর্মরত আছেন। বর্তমানে পাঁচ দিনের ছুটিতে গেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলার কথা শুনেছেন।

ফোন বন্ধ রাখায় অভিযুক্ত এসআই আলমগীর হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুুন