শিরোনাম

বিশ্বকাপ জয়ী যুবাদের বিপুল সংবর্ধনা
উৎসবের রঙ লাল সবুজ

অপেক্ষার প্রহর যত লম্বা হচ্ছিল হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বাড়ছিল ততোই ভিড়। হাতে জাতীয় পতাকা, ফুলের তোড়া, মালা নিয়ে দলে দলে হাজির টাইগার সমর্থকরা। ‘বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা বিমানবন্দর। অপেক্ষার প্রহর শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে দেশের মাটিতে পা রাখে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী যুবারা। মুহূর্তেই তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রী থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আকবর আলীদের এক নজর দেখতে ছুটতে শুরু করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন থেকে শুরু করে সব পরিচালক হাজির তাদের সোনার ছেলেদের ফুলেল অভ্যর্থনায় দেশের মাটিতে স্বাগত জানাতে।

সাদা ফুলের মালা পরিয়ে তাদের বরণ করে নেয়া হয়  এরপর লাল সবুজের পতাকা মোড়ানো গাড়িতে চড়ে টাইগার যুবারা রওনা দেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দিকে। রাস্তায় বের হতেই যেন সব আলো কেড়ে নিলেন ‘ওরা’।

দুই পাশে হাজার হাজার আমজনতা হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। ভক্ত সমর্থকরা গাড়ি, মোটর সাইকেল নিয়ে ছুটতে থাকে তাদের পিছু পিছু। এমন দৃশ্যের এক মুহূর্তও পরিবর্তন হয়নি স্টেডিয়াম পর্যন্ত। সেখানেও লাল গালিচা বিছিয়ে আকবরদের অভিবাদন জানানো হয়। এরপর কেক কেটে, ১৯ বার আতশ বাজি ফুটিয়ে দেয়া হয় সম্মান। সংবর্ধনা মঞ্চে আকবর ট্রফি উঁচিয়ে ধরতেই শুরু হয় চ্যাম্পিয়ান চ্যাম্পিয়ন বলে গর্জন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে আকবর বলেন, ‘এই জয় আমাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আমরা যেন হেলায় গা ভাসিয়ে না দেই।’

বিসিবি সভাপতি জানান আগামী দুই বছর বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটারদের প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এই দলটি যা করে দেখিয়েছে তা আগে কেউ পারেনি। তবে এমন নয় যে তারা অনেক বড় ক্রিকেটার হয়ে গেছে। ওদের এখনো অনেক দূর যাওয়ার আছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। এবারই প্রথম ফাইনালে তারা রচনা করেছে শিরোপা জয়ের ইতিহাস। এমন ঘটনা গোটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এবারই প্রথম। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীমরা পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফুদ্দিনদের সামনে সুযোগ ছিল দেশের মাটিতে ইতিহাস গড়ার। ২০১৬তে তারা প্রথম সেমিফাইনালে খেলার রেকর্ড গড়েন। কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি। এর ঠিক চার বছর পর তামিম, সাকিব, জয়, ইমন, শরিফুলদের নিয়ে আকবর আলী তা করে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস তারা বদলে দিয়েছেন। তাদের এই কৃতিত্বের যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছে গোটা জাতি।

যুব ক্রিকেট বীরদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই দেশের ক্রিকেট সমর্থক সংগঠনগুলো বিমানবন্দরে হাজির। এমনকি ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের। সেখান থেকে তাদের গাড়িতে করে যখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নেয়া হয় সেখানেও হাজার হাজার উৎসুক জনতা বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো প্রবেশ করে। এরপর আকবররা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আসেন মাঠে তাদের জন্য সংবর্ধনা মঞ্চে। তখনো গোটা স্টেডিয়াম চ্যাম্পিয়ান চ্যাম্পিয়ান বলে স্লোাগান দিতে থাকে। মঞ্চে এসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কেক কাটেন। সংবাদ সম্মেলনে এসে যুবদলের অধিনায়ক জানালেন তার পা এখনো মাটিতেই আছে। বিশেষ করে তার নামের পাশে ‘আকবর দ্য গ্রেট’ যোগ হওয়া ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গেও নিজেকে তুলনা করতে চান না। তিনি বলেন, ‘ দেখেন আমি আগেই বলেছি যে এটি আমাদের শুরু। এমন নয় যে আমাদের পা আকাশে। আর আমার সঙ্গে ধোনির কোন তুলনা চলে না। একটি মাত্র ইনিংস দেখে তার মতো একজন গ্রেট ক্রিকেটারের সঙ্গে তুলনার কোনো যুক্তি নেই।’ রিপোর্ট, মানবজমিন পত্রিকার।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন