শিরোনাম

হজ ক্যাম্পে সেনা মোতায়েন
ইউরোপের ফ্লাইটে ঢাকার নিষেধাজ্ঞা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ইউরোপের দেশগুলো থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো বিমান আসবে না। সরকার ইউরোপ থেকে বাংলাদেশগামী সব ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শনিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হজক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ইতালি ফেরত ১৪২ যাত্রী। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। তারা গেট খুলে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হজক্যাম্পের বাইরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালি থেকে শনিবার সকালের একটি ফ্লাইটে এ ১৪২ যাত্রী দেশে এসেছেন।

তাদের নিয়ে হজক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রেখে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া না গেলে সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, যেসব দেশে স্থানীয়ভাবে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব দেশ থেকে প্রবাসীরা এ সময়ে দেশে আসবেন না।

প্রবাসীরা দেশে এলে তাদের মাধ্যমে এ ভাইরাস দেশের মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। তাই এ সময় দেশে না আসাই ভালো। এসব দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রাখতে ও আক্রান্ত দেশ থেকে যেন কেউ না আসেন সেই ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। দেশে এখন আর কোনো সংক্রমিত রোগী নেই। আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।

এদিকে নতুন করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদে জামাতে নামাজ ইত্যাদি সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হবে কিনা এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে আজ। রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে করোনাসংক্রান্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে এমন তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ইতিপূর্বে নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিস্তর সংক্রমণ ছড়িয়েছে এমন দেশ থেকে অনেক অভিবাসী দেশে ফেরায় নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখা, মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া এমনকি গণপরিবহন নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। যদিও কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালি থেকে ১৪২ যাত্রী এসেছেন। তাদের বিমানবন্দর থেকে বিশেষ গাড়িতে আশকোনার হজ ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়েছে।

সেখানে তাদের বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাবে কারও শরীরে করোনাভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ পাওয়া যায়নি। এসব যাত্রীকে বাধ্যতামূলক ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রাখা হবে। যদি কেউ রোগসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেন বা কোয়ারেন্টিনে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন তবে সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা এসেছেন তারা সবাই সুস্থ আছেন। তবে সুস্থ বা অসুস্থ যাই হোন না কেন, বিদেশ থেকে এলে অবশ্যই ১৪ দিনের ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকতে হবে। কোথাও কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য ডাক্তার ও নার্স তৈরি আছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে একটি বিমানে বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০ যাত্রী দেশে ফিরেছেন।

তাদের মধ্যে ইতালির যাত্রীও ছিলেন। তাবে তাদের আসার খবর আমাদের জানানো হয়নি। তাই তাদের বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে রোববার আরও ১৫৫ জন আসবেন। তাদের হজ ক্যাম্পে নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা-উপজেলার কমিটিগুলো খুব তৎপর। করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী রূপ ধারণ করায় বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত না হলেও সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে সকালে শিশু হাসপাতালে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ইতালি ফেরতদের হজ ক্যাম্পেই বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের ডিসি, এসপি ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি ‘হটস অ্যাপ’ গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে সারা দেশ থেকে আপডেট তথ্য আসছে। কোথাও বিদেশ থেকে কেউ এলে আমরা খবর পাচ্ছি।

এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপরতায় কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোন জেলায় কতজনের কোয়ারেন্টিন হচ্ছে, কীভাবে তারা আছেন, প্রতিটি নিউজ আমাদের কাছে আছে।

হজ ক্যাম্পে বিক্ষোভ-হট্টগোল : রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ইতালি থেকে দেশে ফেরা ১৪২ বাংলাদেশি। এতে বাইরে থেকে তাদের স্বজনরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ইতালি ফেরত লোকজন ও তাদের স্বজনদের কথা কাটাকাটি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে ইতালি ফেরত লোকজন ও তাদের স্বজনরা এ বিক্ষোভ করেন। তারা হজ ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষুব্ধরা তখন অভিযোগ করে বলেন, তাদের হজ ক্যাম্পে আনার পর কর্তৃপক্ষ কী করতে চায়, তা বলছে না। তাদের শুধু পানি ছাড়া কোনো খাবারও দেয়া হচ্ছে না। তারা বলছেন, কোয়ারেন্টিনে থাকলে তারা প্রয়োজনে বাড়িতেই থাকবেন। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে গালাগাল করেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী।

হজ ক্যাম্পের প্রধান গেটে এসে বিক্ষোভ ও গেট ধাক্কাধাক্কি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন কয়েকজন প্রবাসী। এ সময় তারা প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এদের একজন বলেন, এখানে তারা অমানবিক অবস্থার মধ্যে আছেন। শিশুরা আছে। কিন্তু কোনো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্ষোভ শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রবাসীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে থাকা ইতালি ফেরত জুনাঈদ আহমেদ বলেন, আমরা ইতালির রোম বিমানবন্দরে একবার টেস্ট করে এসেছি। দুবাইতে আবারও টেস্ট করানো হয়েছে।

এরপর শাহজালাল বিমানবন্দরে টেস্ট করে দেখা হয়েছে আমাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ ছিল না। এরপরও কেন আমাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হল? তিনি বলেন, এখন বিকাল সাড়ে ৫টা বাজে। আমাদের লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে পরীক্ষা করানোর জন্য। কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই।

একজনের গা ঘেঁষে আরেকজনকে দাঁড় করানো হয়েছে। এমনভাবে দাঁড় করানো হয়েছে, কেউ যদি আক্রান্ত থাকেন, তবে তার শরীর থেকে এ ভাইরাস অন্যজনের শরীরে ছড়াবে নিশ্চিত। বিক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের যখন হজ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হল, তখন থাকা-খাওয়া এমনকি শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।

তিনি বলেন, যেখানে আমাদের রাখা হয়েছিল ওই জায়গাটি অনেক নোংরা ছিল। এ কারণে অনেকের মাঝে ক্ষোভের মাত্রা বেশি ছিল। এখন যেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সে জায়গাটি মোটামুটি পরিচ্ছন্ন। অবশ্য এর আগে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে হজ ক্যাম্পের ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। তাদের একজন জানিয়েছেন, নোংরা রুমগুলো তাদের দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়েছে।

এদিকে ইতালি ফেরত লোকজনের স্বজনরা সকাল থেকেই তাদের জন্য বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ ঢাকা ও আশপাশ থেকে এসেছেন, আবার কেউ কেউ এসেছেন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের নাঈমুল হাসান জানান, তার ছোট ভাই ইতালি থেকে এসেছে।

তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন ভাইকে রিসিভ করার জন্য। সেখানে দেখা করতে পারেননি। পরে যখন আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হল তখন তিনিও হজ ক্যাম্পের সামনে এসে ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তিনি বলেন, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয় না। কিছু ভেতরে দিতে চাইলে তারা নিজেরা নিয়ে দেয়।

গোপালগঞ্জের মুকসেদপুরের বাসিন্দা দু’জন পুরুষ ও একজন নারী এসেছেন ইতালি থেকে। তাদেরও হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের স্বজন দেলওয়ার হোসেন থাকেন উত্তরায়। তিনি ও তার দুই স্বজন তাদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, বাসা থেকে রান্না করা খাবার ভেতরে পাঠিয়েছি। তবে তাদের কখন ছাড়বে কেউ কিছু বলছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছেন হজ ক্যাম্পের বাইরে। তিনি জানান, ইতালি ফেরত তার দুই মামা ও ছোট দুই ভাইকে এখানে রাখা হয়েছে। তারা ইতালিতে ব্যবসা করেন। সেখানকার দোকানপাট বন্ধ, তাই তারা দেশে চলে এসেছেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, দেশে এসেও তো এখন তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অথচ তাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেই। তিনি বলেন, তাদের এখানে আনা হবে, পরীক্ষা করা হবে, রাখা হবে-এ বিষয়টি যদি আগে জানিয়ে দেয়া হতো তবে তাদের আর এ সমস্যাটি হতো না।

আইইডিসিআরের ব্রিফিং : বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দু’জন আগেই সুস্থ হয়েছেন। সর্বশেষ বাকি একজনের নমুনার প্রথম পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে। আরও একবার নমুনা পরীক্ষার পর ফলাফল নেগেটিভ এলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস আশঙ্কায় ২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

তবে এদের কারোর মধ্যেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে বর্তমানে হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন নয়জন। এছাড়াও আগে থেকে থাকা চারজন এখনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে ৩ হাজার ৬৮৫ জন যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬০৩ জন যোগাযোগ করেছেন করোনাভাইরাস বিষয়ে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জন আইইডিসিআরে সরাসরি এসে যোগাযোগ করেছেন। তবে দেশে নতুন কোনো রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যাদের শ্বাসকষ্ট আছে বা শ্বাসতন্ত্রজনিত কোনো সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিরা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবেন।

ভারত থেকে ২৩ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন : ভারতের দিল্লিতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর শনিবার দেশে ফিরেছেন চীনের উহান থেকে আনা ২৩ বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের বহনকারী ইনডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট শনিবার বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে তাদের প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা হয়। তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছ, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বাংলাদেশ। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে (নয়াদিল্লির স্থানীয় সময়) ফ্লাইটটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ও ডেপুটি হাইকমিশনার এটিএম রকিবুল হক ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের বিদায় জানান। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে আটকা পড়া ভারতীয়দের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি নিয়ে আসে ভারত সরকার।

এ সময় বাংলাদেশি এসব শিক্ষার্থীদেরও দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। দিল্লি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এসব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এবং ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করত। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করে। সূত্র: যুগান্তর।

কেউ করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত না হওয়ায় ভারত তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা ও অন্যান্য বিষয়ে ভারত সরকার যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে ফেরা এক শিক্ষার্থী বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ভারত সরকার যে অভূতপূর্ব কাজ করেছে সেজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন