1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
অনলাইনেই চলছে জঙ্গিদের সদস্য সংগ্রহ-প্রশিক্ষণ |ভিন্নবার্তা

অনলাইনেই চলছে জঙ্গিদের সদস্য সংগ্রহ-প্রশিক্ষণ

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

জঙ্গিদের সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রোপাগান্ডা প্রচার, যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ সবই চলছে অনলাইনে। আগে শুধু যোগাযোগের জন্য অনলাইন ব্যবহার করা হলেও প্রশিক্ষণ হতো হাতে-কলমে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে জঙ্গিরা এখন প্রশিক্ষণও দিচ্ছে অনলাইনে। এমনকি বোমা তৈরির ম্যানুয়াল তৈরি করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সামরিক শাখার সদস্যদের কাছে। এছাড়া অন্যান্য শারীরিক ব্যায়ামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশলসহ সবকিছুরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে অনলাইনে। নিজেরাই টার্গেট ফিক্সড করে সিঙ্গেল অ্যাটাকের পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিরা এখন পুরোপুরি অনলাইনে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এজন্য অনলাইনে আগের চাইতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি তারা সিলেট থেকে যে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন, তারা প্রত্যেকেই অনলাইনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এদের সেল প্রধান নাইমুজ্জামান অন্য সদস্যদের অনলাইনের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিতো। অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার পল্টন, নওগাঁর একটি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল তারা। এছাড়া সিলেটের শাহজালালের মাজারেও বোমা মেরেছিল। কিন্তু ‘কাঁচা হাতের তৈরি’ বলে সেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়নি।

কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকর্তারা বলছেন, হামলায় অংশ নিতে অনলাইনে প্রশিক্ষণ বা বোমা তৈরির কৌশল শেখানোর বিষয়টি কিছুটা শঙ্কার। জঙ্গিরা গ্রেফতারের ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন কৌশল বেছে নিয়েছে। যাতে যে কোনও জঙ্গি নিজের ঘরে বসেই বোমা তৈরি করতে পারে। একারণে অনলাইনেও ব্যাপকহারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেসব সাইটে জঙ্গিবাদের উপকরণ রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে এগুলোর পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে শিরিনা খাতুন ওরফে তাহসিন আব্দুল্লাহ নামে নব্য জেএমবির নারী শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ডকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। শিরিনা নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমানী খাতুন ওরফে আসমা ওরফে বন্দী জীবনের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে জিহাদি ট্রেনিং ও কথিত হিজরতে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতো।

ওই কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসেই রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে নব্য জেএমবির জেডএস ফোর্সের যে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়, তারাও অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়ে অনলাইনের মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সাফফাত ও আরাফাত নামে ওই দুই তরুণ জঙ্গি জানিয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে ইরাকের আবু গারিব কারাগারে থাকা এক নারী জঙ্গির খোলা চিঠি পড়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন তারা। পরে অনলাইনের মাধ্যমে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাদের। পরে শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে তারা কথিত হিজরতের নামে ঘর ছাড়ে। অনলাইনে পাওয়া নির্দেশনা মতো তারা শারীরিক ব্যায়ামসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিরা রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও এখন অনলাইনের মাধ্যমে করছে। আমরাও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে প্রথাগত সোর্স ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইনে নজরদারি বাড়িয়েছি। প্রযুক্তির সহযোগিতায় জঙ্গিদের অনলাইনের কার্যক্রম মনিটরিং করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে এখনও জঙ্গিবাদের প্রোপাগান্ডাসহ নানা উপকরণ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে জঙ্গিবাদের পক্ষে কোরআন-হাদিসের খণ্ডিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে জঙ্গিদের কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নানারকম বিভ্রান্তিকর লেখালেখি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ‘জঙ্গি গুরু’ হিসেবে খ্যাত জসিম উদ্দিন রাহমানীর বই ও লেকচারগুলো অনলাইনে পাওয়া যায়। উম্মাহ নেটওয়ার্ক নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে শায়খ তামিম আল আদনানী নামে কথিত এক ব্যক্তি নিয়মিত জঙ্গিবাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনলাইনে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো অনেক অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে, অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য অ্যাপসভিত্তিক জঙ্গিদের যে যোগাযোগ সেসবও বিভিন্ন সময়ে বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু একটি বন্ধ করা হলেই আরেকটি নতুন ওয়েবসাইট বা গ্রুপ খুলে সেখানে প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডা চালায় জঙ্গিরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট দুনিয়ায় শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ করে কোনও কিছু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। একদিকে যেমন অনলাইনে নজরদারি বাড়াতে হবে তেমনি জঙ্গিবাদের কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। তরুণদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে যাতে কেউ ভ্রান্ত মতাদর্শের ফাঁদে না পড়ে। এজন্য সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও সবাইকে সচেতন হতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনকেন্দ্রিক জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণ করে আসা তানভীর হোসেন জোহা বলেন, বাংলাদেশে অনলাইনে জঙ্গিবাদ যেভাবে নজরদারি করা হয় তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। জঙ্গিরা এখন ব্যাপকহারে অনলাইনকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এজন্য আমাদের সিস্টেমকে ঢেলে সাজাতে হবে। তা না হলে জঙ্গিদের অনলাইনকেন্দ্রিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না।

তিনি বলেন, আমাদের ইন্টারনেট গেটওয়ের সেশন ও ডেটালিংকে ইন্টারসেপশন দরকার। এই দুই লেয়ারে যতক্ষণ ইন্টারসেপশন না করা যাবে ততক্ষণ অনলাইনকেন্দ্রিক জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা পুনরায় সুসজ্জিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কারণ সচেতনতাই যে কোনও অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে কেউ ভ্রান্ত ব্যাখ্যায় জঙ্গিবাদে জড়ানোর আগে সেই ব্যাখ্যা যাচাই করার সুযোগ পাবে।

ভিন্নবার্তা/এসআর

আরো পড়ুন

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By ProfessionalNews